চালু হল ৫০ বেডের কোভিড সেফ হোম

দীর্ঘ একবছরের বেশি সময় ধরে সমগ্র বিশ্বের মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে মহামারী করোনা। ক্রমাগত প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ছবিও এক্কেবারেই সন্তোষজনক নয়। রীতিমত ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। একদিকে অক্সিজেনের অভাব, অন্যদিকে হাসপাতালে বেডের অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। এরই মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আসন্ন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন বহু মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এবারে এই এগিয়ে আসার সারিতে নাম লেখালো কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা Knognat Foundation। কলকাতা পৌরসভা ও বিধায়ক দেবাশিস কুমারের সহায়তায় Knognat Foundation ‘Knognat Foundation Care Unit’ নামে ৫০ বেডের কোভিড কেয়ার ইউনিট গড়ে তুলেছে South Suburban School -এ।

করোনার প্রথম ঢেউ থেকেই বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, মেডিক্যাল ক্যাম্প, কোভিড সচেতনতা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে আসছে Knognat Foundation। এবারে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখে কাজের পরিধি বাড়ালেন তাঁরা। শিশুমঙ্গল হাসপাতালের বিপরীতে South Suburban School কে পরিণত করছেন ৫০ শয্যা সম্পন্ন সেফ হোমে। এই সেফ হোমে বিভিন্ন বিভাগ, যেমন- আইসোলেশন বিভাগ, বিশেষ বিভাগ, মহিলা বিভাগ, পুরুষ বিভাগ, সাধারণ বিভাগ ও এমারজেন্সি বিভাগ উপস্থিত রয়েছে। বর্তমানে ৩৬ জন কর্মী অবিরত পরিষেবা দিচ্ছেন এখানে। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের জোগান ও ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার, নার্স ও এ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার বন্দোবস্তও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে উন্নত মানের যন্ত্রের সাহায্যে এক্স-রে, ই.সি.জি ও প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টের সুবিধা। সংকটজনক রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য Knognat Foundation -এর কাজে হাতে হাত মিলিয়ে সহযোগিতা করছে Ramkrishna Seva Pratisthan।

এখনও পর্যন্ত ১৮ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ২৮ জন অপিডি রুগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৬-১০ জন রুগী চিকিৎসাধীন আছেন এবং ৫ জন বয়স্ক ও ৩ জন স্বল্প বয়স্ক রুগীকে করোনা মুক্ত করা হয়েছে। Knognat Foundation -এর সমাজসেবী এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্যা দেবীপ্রিয়া গুহর মতে, “মহামারীর প্রথম ঢেউয়ের সময় আমরা কোভিড কিটসহ বাড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসাধীন প্রায় ৩০০ পরিবারকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি। কিন্তু যখন দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে মানুষের অক্সিজেনের অত্যন্ত প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জায়গা পাওয়া। সুতরাং, আমরা আমাদের স্থানীয় বিধায়কের কাছে গিয়েছিলাম এবং লকডাউনের সময় মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপিত এই ইউনিটটি নিয়ে এসেছি। সেফ হোমটি যাতে নার্সিংহোমের চেয়ে কম না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি।

Leave a Reply