জীবন যদি এমন হতো

জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে একটা সময় পর আমরা ক্লান্ত অনুভব করি। অবসাদের প্রাচীর ঘিরে ধরে আমাদের চারপাশ। আমরা ভুলে যায় ভালো থাকার মন্ত্র। তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নরা যখন শেষ হয়ে যায় এক-লহমায়, তখন মনে হয় জীবন বড়ো দূর্ভেদ্য। অন্ধকারে তলিয়ে যায় ক্রমশ।
তাই বলে কি আমরা হার মেনে নিই? মেনে নিই নিজের পরাজয়? বাঁচতে কি ভুলে যায় আমরা? নাহ, কখনোই না। বাচ্চারা যেভাবে খেলতে গিয়ে পড়ে যায়,আবার ধূলো ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, সেভাবে আমরাও সব প্রতিকূলতাকে জয় করে আবারও হাসি মুখে ঘুরে দাঁড়ায়। আর সেটাই হয় আমাদের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। সফলতার খুব কাছে এসে ছুঁয়ে ফেলি জীবনের আস্বাদ।

জীবনটা ভালোমতো কাটাতে কে না চায়! সকলেই চায় তাদের লাইফ যেন হয় পারফেক্ট, সাজানো-গোছানো। হয় কি তা আদৌ? কখনোই হয় না। অনেক ঝড়ের রাত্রি এসে তছনছ করে দেয় আমাদের সাজানো-গোছানো জীবনের পটভূমি। আবার শূন্য থেকে শুরু করি আমরা। অনেক প্রিয় মানুষকে চোখের সামনে বদলে যেতেও দেখি। মন থেকে মানতে কষ্ট হলেও একটা সময় অভ্যাস হয়ে যায় সহ্য করার। আবার অনেক প্রিয় মানুষ হারিয়েও যায় চিরতরে, যাঁদের আর কখনোই কাছে পাওয়া যায় না।
এতো কিছু হারানো, এতো কিছু না-পাওয়া, এতো কিছু বদলে যাওয়ার মাঝেই আমরা খুঁজে পায় আমাদের নিজস্বতা। না-পাওয়ার চেয়ে হয়তো পেয়ে হারানোটা বড্ড বেশি যন্ত্রণাদায়ক। তবে কিছু স্মৃতি আত্মগোপন করে এই মনেরই অন্তরালে। আমাদের ভালো থাকা মন্দ থাকার মাঝেই আমরা রচিত করি আমাদের নিজস্ব গল্পের পটভূমিকা। যার শেষ হয়তো অজানাই থাকে আজীবন কিংবা হয়তো যার শেষ হয় মৃত্যুর হাত ধরে।
এতোকিছু জানতে বা বুঝতে আমাদের অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়। যখন বুঝি তখন আমরা ম্যাচিওরড।
তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়- আহা! জীবন যদি এমন হতো! জীবন যদি অমন হতো! আসলে সবটাই আমাদের অতিরিক্ত চাহিদা। কল্পনার জাল বুনে বুনে স্বর্গ-সুখ পেতে প্রায় প্রত্যেকেই ভালোবাসে। কিন্তু জীবন যে মরুদ্যানের মরিচীকার মতো! চাহিদা গুলো যখন মনের মধ্যে জট পাকায় পূর্ণতার আশায়, আর সফল হয় না তখনই আমরা নিজেদের নিয়ে অসন্তুষ্টি তে ভুগি।
কেন? কেন ভুগবো অসন্তুষ্টি তে? জীবন তো জীবন নাকি! যতদিন বেঁচে আছি পাওয়া, না-পাওয়া, চাওয়া, না-চাওয়া কে ঘিরেই উৎসব করে বাঁচবো। কী পেলাম আর কী পেলাম না, তার হিসাব নাই বা করলাম।
তারচেয়ে যার যতটুকু আছে তাতেই সবাই আনন্দে থাকাটাই তো জীবনের এক নাম।
একটা কথা, নিজেকে খুশি করে যত না আনন্দ তুমি পাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পাবে তুমি অন্যের আনন্দ দেখে। জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া তো সেটাই যখন দেখবে অন্যের আনন্দের কারন তুমি বা তোমার কর্ম।
সবশেষে বলি, জীবন আঁকাবাঁকা বয়ে চলা নদীর মতোই। কখনো চড়াই কখনো উতরাই। কখনো জোয়ার আবার কখনো ভাঁটা। বয়ে চলায় জীবন আর থেমে যাওয়ায় মরণ।
রবি ঠাকুরের কথায়- “একবার মরার আগে মরবো না ভাই মরবো না!”

–অরুণিমা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *