Sports

Foot-এ আছে ফুটবল

Foot-এ আছে ফুটবল

“সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল…”

ইলিশ, চিংড়ি যেমন বাঙালির রক্তে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে, তেমনিভাবেই বাঙালির রক্তে আছে ফুটবল। সে হোক না পাড়া ফুটবল, ক্লাব ফুটবল কিংবা ইন্টারন্যাশনাল। আবার অন্যদিকে ফুটবল নিয়ে ‘মাচা’ আর ‘লোটা’র লড়াই তো বাঙালির প্রতি সন্ধের চায়ের সাথে ‘হট কেক’।

কিন্তু ফুটবল বলতেই মাথায় সবার প্রথমে কী আসে? একদল দস্যি দামাল ছেলে পায়ে বল নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে মাঠের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, তাই তো? কিন্তু ধারনাটা এবার একটু বদলানো যাক। একদল দস্যি দামাল মেয়ে বরং বল পায়ে ছুটুক মাঠ জুড়ে। যদিও এ ঘটনা একেবারেই বিরল বা আশ্চর্যের কিছুই না। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে প্রায় হান সাম্রাজ্যের সময়কাল থেকেই এই খেলা প্রচলিত। যদিও সঠিক সময় ও তারিখ নিয়ে সংশয় অবশ্যই আছে। তবে রিপোর্ট অনুসারে, প্রথম নথিভুক্ত মহিলা ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল ১৮৯২ সালে গ্লাসগো শহরে। ইংল্যান্ডে প্রথম মহিলা ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল ১৮৯৫ সালে। কিন্তু বর্তমানে গোটা বিশ্বের প্রায় ১৭৬ টি জাতীয় দল আন্তর্জাতিক স্তরের মহিলা ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করে।

তবে শুরুর দিকে মহিলাদের জন্য এই বল পায়ে মাঠ জুড়ে ছুটে বেড়ানো খুব একটা সহজ ছিল না। অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তবে আজ মহিলা ফুটবল এই স্থান অধিকার করেছে। মহিলা ফুটবল ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে। তৎকালীন জনপ্রিয় ফুটবল দল ছিল ইংল্যান্ডের প্রেস্টন শহরের Dick, Kerr’s Ladies। এই দলটি ১৯২০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরের ম্যাচ খেলে প্যারিসের একটি দলের বিরুদ্ধে এবং সেই বছরই Scottish Ladies XI দলের বিরুদ্ধে ২২-০ গোলের এক বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করে।

কিন্তু ১৯২১ সালে মহিলা ফুটবল কুরুচিপূর্ণ এমন মন্তব্য করে The Football Association, এবং ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেয়। আর সেই জায়গা থেকে জন্ম নেয় এক নতুন সংস্থা English Ladies Football Association।

১৯৭০ সালে পেশাদারি মহিলা ফুটবলে ইতালি প্রথম স্থান অধিকার করে। ১৯৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দল গঠিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে জাপান প্রথম পেশাদারি মহিলা ফুটবল লীগ চালু করে।

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে মহিলা ফুটবলের ব্যাপক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। ১৯৯১ সালে FIFA আয়োজিত মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ অবধি ক্রমাগত মহিলা ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক নতুন নতুন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ শুরু হয়েছে, যেমন— UEFA Women’s Championship, FIFA Women’s World Cup, Copa Libertadores de América de Fútbol Femenino, FA Woman’s Challenge Cup এবং সর্বোপরি রয়েছে Olympic।

তবে তা সত্ত্বেও পুরুষ ফুটবলের মতো মহিলা ফুটবল এখনো সেই জনপ্রিয়তা বা প্রচার কোনোটাই পায়নি, তাই সেই নিরিখে এখনো মহিলা ফুটবল পিছিয়েই আছে। তবে আশা করা যায়, আগামীতে পুরুষ ও মহিলা ফুটবল জনপ্রিয়তায় একে অপরকে সমানে সমানে নিশ্চয়ই টক্কর দেবে।

Source
Wikipedia
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

Close
Close