fbpx

ধর্ণায় বসে ভালোবাসা ফিরিয়ে আনলেন প্রেমিক

অফিস কাছারি কিংবা রাস্তায় ধর্ণা দিতে কমবেশি আমরা সবাই দেখেছি‌। তবে এবার, ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবার দাবিতে ধর্ণায় বসলেন প্রেমিক ।

২ রা জুন রবিবার ঠিক এরকম ঘটনাই ঘটলো ধূপগুড়িতে। প্রেমিকা লিপিকা বর্মনের বাড়ির সামনে প্রেমে প্রতারণার অভিযোগ টেনে ধর্ণায় বসলেন প্রেমিক অনন্ত বর্মন।

অনন্ত বর্মনের অভিযোগ, তাঁর ও লিপিকা বর্মনের মধ‍্যে ৮ বছরের রিলেশনশিপ ছিল।

হঠাৎই লিপিকা তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং সমস্ত যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেন।

পরে জানা যায়, লিপিকার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় তিনি আর সম্পর্ক রাখতে চাননি। যদিও এটা একেবারেই মানতে পারছেন না অনন্ত।

এর আগেও আমরা খবরে এরকম ঘটনার কথা শুনেছি কিংবা পড়েছি। তবে এই ঘটনা এখন সোশ‍্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের মাধ‍্যমে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সবার মুখেই ঘুরছে এই চমকে দেওয়া ঘটনা।

যদিও প্রেমিকের এরকম অভিযোগ কে একেবারেই অস্বীকার করেছেন প্রেমিকা।

লিপিকাকে পাত্রপক্ষ থেকে দেখতে আসার খবর পেয়ে লিপিকার বাড়ির সামনে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে জমায়েত করেন প্রেমিক ।

এরপর পাত্রপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে প্রেমিকার পরিবার থেকে।

প্রতিবেশীদের থেকেও জানা গেছে, অনন্ত ও লিপিকার ৮ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাঁদের সম্পর্কের ভাঙনের কারণ কারো জানা নেই।

প্রেমিকার প্রত‍্যাখান কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি অনন্ত। তাই তিনি ৮ সম্পর্ক ফিরিয়ে দেবার দাবিতে ধর্ণায় বসেছেন। এমনটাই জানিয়েছেন প্রেমিক অনন্ত বর্মন।

এমনকি তিনি প্ল‍্যাকার্ডে ভালোবাসা ফিরিয়ে দাও, ৮ বছর ফিরিয়ে দাও এমন দাবি লিখে ধর্ণায় বসেছেন।

এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ অনন্ত কে অনেক বোঝানোর পরেও ধর্ণা থেকে উঠতে রাজি হননি প্রেমিক অনন্ত।

অনন্তর বাড়িতে এরকম খবর পেয়ে লিপিকার বাড়িতে যায় অনন্তর পরিবার। তারপর, শুরু হয় দুই পরিবারের মধ‍্যে তুমুল বচসা।

অবশেষে পরিস্থিতির সামাল দিতে মাঠে নামতে হয় ধূপগড়ি পুলিশকে।

৮ বছরের সম্পর্কে হঠাৎ ফাটলে বিধ্বস্ত প্রেমিক ভালোবাসার দাবিতে কতদিন এভাবে ধর্ণায় বসে থাকবেন?

পুলিশের তযফ থেকে জানানো হয়েছে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাঁরা অনন্তকে ধর্ণা থেকে তুলতে পারবেন না।

অন‍্যদিকে অনন্তকে তাঁর কোনও অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে থানায় জমা দেওয়ায় কথা বলা হয়েছে।

এরকমভাবে ২৪ ঘন্টা ধর্না দেবার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অনন্ত। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাড়ি থেকে সম্পর্ক মেনে নেয় দুজনের। শেষ হাসি হেসেছে প্রেমিক।

এই ভালোবাসার জয়ে শুধু অনন্তই খুশি নন, তাঁর এই ভালোবাসার আনন্দে মেতেছে গোটা ফেসবুক দুনিয়া। তাঁর ছবি পোস্ট করে অভিনন্দন জানিয়েছে হাজারো যুবক।

Leave a Reply