fbpx
তিমি ভেসে আসার বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকলো মন্দারমণি

তিমি ভেসে আসার বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকলো মন্দারমণি

মন্দারমণিতে দেখা গেল বিশালাকার তিমি। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত‍্যি। সোমবার মন্দারমণির মোহনায় সাতসকালে এক বিশালাকার তিমি ভাসতে দেখা যায়। তিমিটি লম্বায় প্রায় 80 ফুট এবং চওড়ায় ১০ ফুট। ওজন আড়াই টনের কাছাকাছি।

এইদিন প্রথমে স্থানীয় মৎসজীবীদের চোখে পড়ে এই বিশালাকার সামুদ্রিক প্রাণীটি। তাঁরা আয়তনে এত বড়ো কালো গম্বুজের মতো প্রাণীটি দেখে ভাবেন নৌকো উল্টে গিয়েছে। কিন্তু সামনে যেতেই ভুল ভাঙে তাঁদের। দেখেন ওটা নৌকা নয়, বরং আস্ত একটা মৃত তিমি।

তিমিটি জোয়ারের টানে বিকেল নাগাদ পাড়ে ভেসে আসে। তিমি ভাসছে, এই খবর শুনেই ভিড় জমে স্থানীয় বাসিন্দাদের।খবর পেয়ছ ঘটনাস্থলে আসে বনদপ্তর, মন্দারমণির কোস্টাল থানার পুলিশ ও দীঘা মেরিন অ্যকোয়ারিয়ামের কর্মকর্তারা। জ‍্যুলজিক‍্যাল সার্ভে অব্ ইন্ডিয়া থেকে পরীক্ষা করে জানানো হয়, তিমিটি ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় ১৫ দিন ধরে তিমিটি সমুদ্রে মৃত অবস্থায় ভাসছিল এবং এটি কোনো জাহাজের ধাক্কায় মারা গেছে।

দীঘা মেরিন অ্যকোয়ারিয়াম থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের তিমি সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরে দেখা যায়। প্রজননের কারণে হয়তো বঙ্গোপসাগরে এসেছিল, তখনই জাহাজের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। প্রায় ১৫ দিন ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকে তিমিটি। তারপর জোয়ারের টানে মৃত তিমি ভেসে আসে সমুদ্রের পাড়ে।

পাড়ে তিমি ভেসে আসতেই হিড়িক পড়ে যায় সেলফি তোলার। সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় মৃত তিমির ছবি। বিরলতম এই ঘটনার দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তিমিটি পাড়ে আসার আগে থেকেই তার সৎকারের কাজের প্রস্তুতি চলছিল। জেসিবি দিয়ে বড় আয়তনের গর্ত খোঁড়া হয়। এই সময় তিমির সৎকার দেখতে ভিড় উপচে পড়ে স্থানীয় মানুষের। সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। সমুদ্র সৈকতের চরে বিশালায়তন তিমিটিকে পুঁতে দেয় বনদপ্তর। মৃত গর্তে তিমিটি ফেলার পর নুন ও ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিয়ে বালি চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তিমির কঙ্কালটিকে প্রদর্শনীর জন‍্য তুলে নিয়ে যাওয়ার মনোভাব প্রকাশ করেছে ওই এলাকার প্রশাসন।

এই লকডাউনে আমরা ইতালিতে ডলফিন ফিরে আসতে দেখেছি, দেখেছি গুজরাটের রাস্তায় সিংহ, দেখেছি প্রকৃতির অপার বিস্ময়। তবে মন্দারমণির মোহনায় তিমির দেখা পাওয়ার ঘটনা সত‍্যিই বিরল। আর এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকলো শতশত মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *