আন্দোলনের হুল দিবস

প্রতিবছর ৩০শে জুন পালিত হয় হুল দিবস বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস । ইতিহাসটা প্রায় ১৫০ বছর পুরনো । ১৮৬৫ সালে সিধু-কানুর নেতৃত্বে হয় আদিবাসীদের বিদ্রোহ । এটিই ইংরেজদের দেশথেকে বহিষ্কার করার প্রথম সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন । কানুকে ফাঁসি দেওয়া হয় আর সিধুকে গুলি করে মেরে ফেলে ইংরেজ সিপাহিরা । তাদেরই স্মরনে প্রতিবছর পালিত হয় হুল দিবস ।

Source : People’s reporter

ইংরেজ আমলেও আদিবাসীরা নিজেদের অধিকার পায়নি , আজও এই গণতন্ত্রে তাদের কোন অধিকার নেই । ওরা সবসময়ই বঞ্চিত । সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েক বছর ধরে জঙ্গল মহলে হুল দিবস উদযাপন করছেন । শামিয়ানা খাটিয়ে সেই অনুষ্ঠান যেন মোচ্ছব । নাচগান আর মন্ত্রীদের বক্তৃতাতেই খুশি করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হয়তো ভুলে গেছিলেন যে সাঁওতালদের শরীরে আজও সিধু কানুদের রক্ত বইছে । যে মাওবাদীরা এতদিন ওদের ওপর জোরজুলুম করেছে , আজ তারাই ভাল সেজে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে মৌজ করছেন । না মেনে নিতে পারেনি ওরা । ওরা মেনে নেওয়ার জাতই নয় । ওরা জানে , আজও বাঁচতে হলে লড়াই করতে হয় । রাষ্ট্রের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে হয় অধিকার ।
আজ ওরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে সরকারের মেকি অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে । ওরা নিয়ন আলয় উজ্জ্বল মঞ্চ চায় না , ওরা রঙিন কাপড়ে মোড়া প্রাঙ্গণ চায় না । ওরা চায় ভালভাবে বাচার অধিকার । আজ পশ্চিম মেদেনিপুর , পুরুলিয়ার বিভিন্ন জায়গার হাজার হাজার আদিবাসী আন্দোলনে নেমেছে । সরকারি উৎসব বয়কট করে ওরা রাস্তায় নেমেছে । শান্তিপূর্ণ অবস্তানের জন্য যান চলাচল স্তগিত , থমকে গেছে কিছু লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন ।

 

Source : ABP

এই আন্দোলনের উৎস মূলত ঝাড়খণ্ড । একটি জমি আইনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল এর ছত্রছায়ায় হাজার হাজার আদিবাসী । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনের ব্যাপারে বলতে গিয়ে সংগঠনের মুখপাত্র রবিন টুডু বলেন , “ যে মাওবাদীরা নির্বিচারে এলাকায় খুন সন্ত্রাস করেছিল , তারা হুল দিবসের অনুষ্ঠানে নাচগান করবে , এটা মেনে নেওয়া যায় না। ’’

Source : ABP

Source : People’s reporter

আদিবাসীদের আবার অধিকার ? ওদের আবার ভাবাবেগ ? এগুলো প্রশ্ন নয় , বক্তব্য হিসেবেই হয়তো বলবেন এই অপদার্থ সরকার । কিন্তু সাবধান সরকার বাহাদুর ! সাঁওতালরা ডরায় না । ওরা প্রয়োজনে রক্ত দিতেও পারে , আবার ঝরাতেও পারে । ওদের ভাবাবেগ নিয়ে খেলবেন না , ওরা দরকারে জ্বলে উঠতে পারে ।

Tanmoy Das

কুশপুতুলে পুড়বো যেদিন, যেদিন আমার লেখা রাস্তায় পুড়িয়ে ফেলে স্লোগান দেওয়া হবে- সেদিন কবি বলব নিজেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker