Extra Marital Affair: বিয়ের আট বছর পর হঠাৎ করে তোমার পার্টনারের ফোনে লক প্যাটার্ন বদলে গেছে। আগে যেখানে সবকিছুই ছিল খোলামেলা, এখন সেখানে একটা অদৃশ্য দূরত্ব। মাঝরাতে ফোনে আলো জ্বলে উঠছে, কিন্তু তোমাকে বলা হচ্ছে—“অফিসের কাজ।”
প্রথমে সন্দেহ হয় না, তারপর ধীরে ধীরে প্রশ্ন আসে—সব ঠিক আছে তো? আর একদিন হঠাৎ করে বুঝতে পারো, গল্পটা শুধু “অফিসের কাজ”-এর মধ্যে আটকে নেই।
এই দৃশ্যটা কি শুধু সিনেমার? নাকি আমাদের চারপাশে নিঃশব্দে ঘটে চলা একটা বাস্তবতা?
ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের এই বদলটা অনেকটাই নিঃশব্দে ঘটছে। আজ থেকে দশ-পনেরো বছর আগে পরকীয়া মানে ছিল গোপন দেখা করা, চিঠি, বা ল্যান্ডলাইন ফোনে সাবধানে কথা বলা। সুযোগ কম ছিল, ঝুঁকি বেশি ছিল। কিন্তু এখন? একটা স্মার্টফোন, একটা অ্যাপ, আর কয়েকটা ক্লিক—এর বেশি কিছু লাগে না।

Gleeden-এর মতো এক্সট্রা-ম্যারিটাল ডেটিং অ্যাপ ভারতে ৪০ লক্ষ ইউজার ছুঁয়ে ফেলেছে। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা, আর রাত ১০টা থেকে ১২টা—এই সময়গুলোতে সবচেয়ে বেশি অ্যাক্টিভিটি দেখা যায়। অর্থাৎ, সম্পর্কের বাইরে নতুন সম্পর্ক খোঁজা এখন সময়ের ফাঁকেই ঢুকে পড়েছে।
কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে—এই ডেটা কি সত্যিই প্রমাণ করে যে পরকীয়া বাড়ছে? নাকি এটা শুধু দেখাচ্ছে যে এখন মানুষ সেই ইচ্ছেটাকে প্রকাশ করার প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছে? কারণ এই সমস্ত তথ্য মূলত অ্যাপের নিজেদের দেওয়া। যারা এই অ্যাপ ব্যবহার করছে, তারা তো এমনিতেই একটা নির্দিষ্ট মানসিকতার মধ্যে রয়েছে। তাহলে কি আমরা পুরো সমাজের ছবি দেখছি, নাকি একটা নির্দিষ্ট অংশের?
তবুও একটা পরিবর্তন স্পষ্ট—নারীদের অংশগ্রহণ। গত দু’বছরে প্রায় ১৪৮% বৃদ্ধি। আগে যেখানে এই ধরণের প্ল্যাটফর্মে পুরুষদের আধিপত্য ছিল, এখন সেখানে মহিলারাও সমানভাবে উপস্থিত হচ্ছেন। কেন এই পরিবর্তন? অনেকেই বলছেন, আর্থিক স্বাধীনতা, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আর সম্পর্কের মধ্যে নিজের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া—এই সবকিছু মিলেই এই বদল। আগে হয়তো অসন্তোষ থাকলেও সেটা চেপে রাখা হত, এখন সেই অসন্তোষের একটা “এক্সিট অপশন” তৈরি হয়েছে।
আর একটা বড় পরিবর্তন—এই ট্রেন্ডটা আর শুধু মেট্রো শহরে সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ছাড়িয়ে এখন ছোট শহরেও এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে। মানে, এটা আর “urban phenomenon” নয়, বরং একটা broader social shift। প্রশ্নটা তখন আরও গভীর হয়—আমরা কি সত্যিই বদলে যাচ্ছি, নাকি আমাদের সম্পর্কের কাঠামোটাই বদলে যাচ্ছে?
যখন একটা সম্পর্ক শুরু হয়, তখন সেখানে থাকে excitement, সময়, কথা বলা, একসঙ্গে থাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে—চাকরি, পরিবার, চাপ। ধীরে ধীরে কমে যায় কথা বলা, কমে যায় সময় দেওয়া। অনেক সময় সম্পর্কটা টিকে থাকে, কিন্তু তার ভেতরের সংযোগটা ফিকে হয়ে যায়। এই জায়গাতেই তৈরি হয় একটা শূন্যতা—যেটা কেউ কেউ পূরণ করার চেষ্টা করে সম্পর্কের বাইরের কারও মাধ্যমে।

কেউ খুঁজছে emotional connection, কেউ validation, কেউ শুধু একটু নতুনত্ব। আর এই “নতুনত্ব”-এর খোঁজটাই অনেক সময় মানুষকে এমন একটা পথে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসা সহজ নয়। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা দাঁড়ায়—সমস্যাটা কি পরকীয়া, নাকি সেই শূন্যতা, যেটা মানুষকে পরকীয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
তুমি যদি একটু খেয়াল করো, দেখবে—সব সম্পর্ক ভাঙছে না, কিন্তু অনেক সম্পর্ক নিঃশব্দে বদলে যাচ্ছে। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দূরত্ব বাড়ছে। আর সেই দূরত্বই হয়তো আজকের দিনে সবচেয়ে বড় গল্প।
তাহলে কি সত্যিই মানুষ আগের থেকে বেশি “cheat” করছে?
নাকি এখন শুধু সেই গল্পগুলো সামনে আসছে, যেগুলো আগে লুকিয়ে থাকত?
এই প্রশ্নটার উত্তর এত সহজ নয়। আর সেই উত্তর খুঁজতেই আমাদের যেতে হবে আরও গভীরে—মানুষের মনস্তত্ত্ব, সমাজের পরিবর্তন, আর সম্পর্কের ভবিষ্যতের দিকে।
পরকীয়া—শব্দটা শুনলেই একটা তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকের কাছে এটা স্পষ্টভাবে “ভুল”, বিশ্বাসঘাতকতা। আবার কেউ কেউ বলছে—“এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।” তাহলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়—পরকীয়া কি শুধুই নৈতিকতার বিষয়, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্কের সংজ্ঞা?
একটা সময় ছিল, যখন বিয়ে মানেই ছিল একটা স্থায়ী প্রতিষ্ঠান—যেখানে ভালো-মন্দ সবকিছু মেনে নিয়েই চলতে হয়। সমাজ, পরিবার, নিয়ম—সবকিছু মিলিয়ে সেই সম্পর্কটা একটা কাঠামোর মধ্যে বাঁধা ছিল। কিন্তু আজকের দিনে, সেই কাঠামোটা অনেকটাই আলগা হয়েছে। এখন মানুষ শুধু “থাকা”-কে সম্পর্ক বলে মানতে চায় না, তারা চায় “ভালো থাকা”। আর যখন সেই ভালো থাকাটা পাওয়া যায় না, তখন অনেকেই বিকল্প খোঁজে—যেটা অনেক সময় পরকীয়ার রূপ নেয়।
মনস্তত্ত্বের দিক থেকে দেখলে, cheating-এর পিছনে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন দেখা যায়। অনেক সময় এটা শুধুই শারীরিক আকর্ষণ নয়। বরং এটা validation-এর খোঁজ—কেউ তোমাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে, তোমার কথা শুনছে, তোমাকে আবার “special” মনে করাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে এই অনুভূতিটা ধীরে ধীরে কমে যায়। তখন বাইরের কেউ যদি সেই জায়গাটা পূরণ করে, সেটা খুব দ্রুত আকর্ষণ তৈরি করে। এর সঙ্গে যোগ হয় novelty—নতুন কিছু করার, নতুন কাউকে জানার একটা উত্তেজনা। আর অনেক ক্ষেত্রে, এটা একটা escape—নিজের বাস্তব জীবনের চাপ, অসন্তোষ থেকে কিছু সময়ের জন্য পালিয়ে থাকার চেষ্টা।

কিন্তু এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখতে হবে—সবাই cheating করছে না, আর যারা করছে, তাদের কারণও এক নয়। কিছু survey বলছে, পরকীয়া বাড়ছে। আবার কিছু রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক বছরে cheating-এর হার কিছুটা কমেছে। এই conflicting data-টাই দেখায়, বিষয়টা এতটা সোজা নয়। কারণ এই ধরণের behaviour মাপা খুব কঠিন। অনেকেই সত্যিটা বলেন না, আবার অনেকেই এখন আগের থেকে বেশি খোলাখুলি বলছেন। ফলে “বাড়ছে” নাকি “দেখা যাচ্ছে”—এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন।
তবে একটা জিনিস স্পষ্ট—এর প্রভাব। একটা extramarital সম্পর্ক শুধু দু’জন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটা একটা পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিতে পারে। ভেঙে যেতে পারে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া বিশ্বাস। Divorce-এর সংখ্যা বাড়ছে, counselling-এর প্রয়োজন বাড়ছে, mental health issue বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে অনেক সময় সেই মানুষগুলোর ওপর, যারা এই সম্পর্কের অংশই নয়—যেমন সন্তানরা। তাদের কাছে সম্পর্ক, বিশ্বাস, ভালোবাসা—এই ধারণাগুলোই বদলে যেতে শুরু করে।
আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে social media। একদিকে privacy—মানুষ ভাবে, সবকিছু গোপন রাখা সম্ভব। অন্যদিকে digital footprint—একটা message, একটা screenshot, একটা ভুল—সবকিছু মুহূর্তে সামনে চলে আসতে পারে। ফলে সম্পর্কের মধ্যে একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে—বিশ্বাস আর সন্দেহের মধ্যে।
তাহলে ভবিষ্যৎ কোথায় যাচ্ছে? আমরা কি এমন একটা সময়ের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে traditional marriage ধীরে ধীরে বদলে যাবে? কেউ বলছে, open relationship বা নতুন ধরণের understanding বাড়বে। কেউ বলছে, trust crisis আরও গভীর হবে। সত্যিটা হয়তো মাঝামাঝি কোথাও।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা আবার সেখানেই ফিরে আসে—সমস্যাটা কি পরকীয়া, নাকি সেই শূন্যতা, যেটা মানুষকে এই পথে নিয়ে যায়? যদি একটা সম্পর্কের মধ্যে কথা বলা থাকে, বোঝাপড়া থাকে, emotional connection থাকে—তাহলে কি বাইরের কারও প্রয়োজন হয়? নাকি আমরা শুধু ফলাফলটা দেখি, কিন্তু কারণটা দেখতে চাই না?
তুমি যদি চারপাশে তাকাও, দেখবে—সব সম্পর্ক ভাঙছে না, কিন্তু অনেক সম্পর্ক বদলে যাচ্ছে। আর এই বদলটা শুধু technology বা app-এর জন্য নয়—এটা মানুষের চাহিদা, প্রত্যাশা, আর সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে যাওয়ার গল্প।
তাই হয়তো সবচেয়ে সৎ প্রশ্নটা এটা—
মানুষ কি সত্যিই বেশি “cheat” করছে?
নাকি আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে
ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সম্পর্ক—সবকিছুকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে?