fbpx
Travelogue

গ্রাম বাংলার ভ্রমণ বৃত্তান্ত (বাঁকুড়া)

শীতকাল মানেই ঘোরাঘুরি, পিকনিক, খাওয়াদাওয়া। ঘোরাঘুরি বা পিকনিকের জন‍্য গ্রাম বাংলার কয়েকটি ট‍্যুরিস্ট স্পট নিয়ে আলোচনা করা হবে এই পর্বে। গ্রাম বাংলার ভ্রমণ বৃত্তান্তের প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করবো বাঁকুড়া জেলার দুটি দুর্দান্ত ট‍্যুরিস্ট স্পট নিয়ে।

সুতান হলো বাঁকুড়া জেলার একটি আদিবাসী গ্রাম যেখানে সাঁওতাল, মুন্ডা এবং ভূমি উপজাতিদের দ্বারা বাস করে। এটি বাঁকুড়া থেকে প্রায় ৭০ কিমি দূরে অবস্থিত। শাল, পলাশ, মহুয়া এবং পিয়ালের এই বনজ অঞ্চলটিকে ঘিরে রয়েছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হ’ল সুন্দর সুতান হ্রদ। এই হ্রদে নৌকা চালানোর সুবিধা রয়েছে। আশেপাশের বনাঞ্চলের তুলনামূলক মিল দেখতে এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। কখনও কখনও বন্য হাতিগুলি এখানেও দেখা যায় যা ডালমা পাহাড় থেকে এখানে আসে।

হাওড়া থেকে ট্রেনে করে বাঁকুড়া পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে আপনি বাঁকুড়া থেকে সুতান গ্রাম যাবার বাসে উঠতে পারবেন। এই গ্রামটি জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত , তাই আপনাকে রাস্তার ধারে নেমে বনাঞ্চলের মধ‍্য দিয়ে সুতান গ্রামে পৌঁছতে হবে। সবচেয়ে ভালো ছোটো গাড়ি করে এই ট‍্যুর করা।

আপনি লেকের পাশে অবস্থিত ট্রেকার হাটে থাকতে পারেন। নইলে ঝিলিমিলিতে থাকতে পারেন।
রিমিল ট্যুরিস্ট লজ, ঝিলিমিলি। এই ট‍্যুরিস্ট লজ সুতান গ্রাম থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। এই লজে আপনি থাকার জন‍্য পেয়ে যাবেন ট্রি হাউস। আপনি যদি ঘন জঙ্গলের মাঝে টেন্ট খাটিয়ে কিংবা ট্রি হাউসে থাকার অভিজ্ঞতা নিতে চান তবে সুতান গ্রাম আপনার জন‍্য বেস্ট।

বাঁকুড়া জেলার আরও একটি উল্লেখযোগ্য ট‍্যুরিস্ট প্লেস হলো মুকুটমণিপুর গ্রাম। মুকুটমণিপুরের নাম শোনোনি এরকম ভ্রমণপিপাসু লোকজনের সংখ‍্যা হয়তো অনেক কম।

মুকুটমণিপুর পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি ছোট ছোট গ্রাম। এটি কাঙসাবতী ও কুমারী নদীর সঙ্গমে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের নিকটে অবস্থিত। বাঁকুড়া শহরটি এখান থেকে মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দূরে।

খুব সুন্দর এই গ্রামের চারদিকে ছোট ছোট পাহাড় এবং মাঝখানে সুন্দর বাঁধ। বাঁকুড়া জেলার সর্বাধিক আকর্ষণীয় জায়গা হ’ল মুকুটমণিপুর বাঁধ। অন‍্যতম বিশেষ আকর্ষণ পয়েন্ট হ’ল হরিণ পার্ক, মূল জায়গা থেকে ৫.৫ কিলোমিটার দূরে এবং নৌকা কিংবা লঞ্চে নদী পার করে যেতে হয় হরিণ পার্কটিতে।

মুকুটমণিপুর গ্রাম কিছুটা হলেও অফবিট পর্যটন কেন্দ্র, প্রকৃতির প্রশান্তির মাঝে শান্তিপূর্ণ উইকএন্ডে থাকার জন্য অত্যন্ত আদর্শ। যদিও মুকুটমণিপুর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি জনপ্রিয় পিকনিক গন্তব্য এবং এটি বাংলার শীর্ষ দশ জনপ্রিয় পিকনিক গন্তব্যগুলির মধ্যে রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত এটি ধীরে ধীরে একটি আদর্শ সাপ্তাহিক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এই সমস্ত ক্লান্ত মন এবং দেহ যারা নগর জীবনের ব্যস্ততা থেকে বাঁচতে চায় তাদের জন্য, মুকুটমণিপুর চূড়ান্ত শিথিলতার জন্য উপযুক্ত গন্তব্য।

মুকুটমণিপুর এমন একটি জায়গা যেখানে আশেপাশে খুব বেশি দর্শনীয় স্থান নেই। এটি এমন এক জায়গা যেখানে লোকেরা ভিড় এবং ব্যস্ত নগরজীবন থেকে অনেক দূরে, স্বাচ্ছন্দ্য এবং অনাবশ্যক করতে যান। বাঁধটি দ্বারা নির্মিত অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দর হ্রদ সহ জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটি ঘন বনাঞ্চল পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত যা আপনাকে প্রশংসিত করার জন্য যথেষ্ট।

হরিণ পার্ক সহ হ্রদের বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন উজ্জ্বল সবুজ দ্বীপগুলিতে নৌকা চালানো একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা এবং এটি একাকী দ্বীপে প্রকৃতির সাথে একা থাকার এক অনন্য সুযোগ দেয়। আপনার প্রিয়জনের সাথে ফুটপাথ বরাবর ঘোরাঘুরি সত্যিই একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা যা শিথিল করতে সহায়তা করে এবং হ্রদ এবং ল্যান্ডস্কেপকে ছোট ছোট পাথুরে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সহায়তা করে। আপনার পাশে আপনার প্রিয়জনের সাথে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখা আজীবন লালন করার স্মৃতি হয়ে থাকবে। ফুটপাথের উপর দিয়ে হাঁটতে বা একটি চাঁদের রাতে আপনার প্রিয়জনের হাতে আপনার হাত ধরে হ্রদের পাশে বসে থাকা আপনার জীবনের সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্ত অবশ্যই হয়ে উঠবে। আর এই সমস্ত কিছুর আনন্দ দেবে মুকুটমণিপুর গ্রাম।

মুকুটমণিপুরের বিশাল জলরাশির মাঝখানে একটি নৌকা ভ্রমণ আপনাকে প্রায় সমুদ্রের মাঝখানে থাকার অনুভূতি দেয়। সবুজ বন এবং পাহাড়ের চূড়ায় ঘেরা জলের বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি এতটাই সৌন্দর্যে ভরা যে আপনার ফোটো তুলেও মন ভরতে চাইবে না। এছাড়াও বনপুকুরিয়া হরিণ পার্কে আপনি বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমী পাখির সাথে প্রকৃতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন – যেখানে আপনি এক হাজার একর ফুট জুড়ে কয়েক শতাধিক জলপথে নৌকায় পৌঁছতে পারবেন। জলের মধ‍্যে কয়েকটি ছোট ছোট পাথুরে দ্বীপ রয়েছে যা বর্ষার সময় ডুবে যায়।

নিকটস্থ বনপুকুরিয়া হরিণ পার্কটি ঘুরে দেখার জন্য আপনি মোটরবোট এবং একটি ভ্যান রিকশা ভাড়া নিতে পারেন । বাঁধের পুরো দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার। কুমারী ও কংসাবতীর নদীর সঙ্গম দেখতে আপনি বাঁধের উপরের রাস্তা ধরে ৬ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে ট্রেকার বা অটোরিকশা ভাড়া নিতে পারেন। এই মাটির বাঁধটি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল।

ঘন অরণ্য এবং নীল জলরাশি সত্যিই সাইটটিতে এক দমকে দেখার দৃশ্য তৈরি করে। এর জমকালো দর্শনীয়তার কারণে অঞ্চলটি একটি আকর্ষণীয় উইকএন্ড স্পটে পরিণত হয়েছে। গ্রাম বাংলায় শীতকালীন ভ্রমণের জন্য পিকনিক ডেস্টিনেশন হিসেবে মুকুটমণিপুর রাখতেই পারেন। থাকার জন‍্য অনলাইন, অফলাইন দুইয়ের ব‍্যবস্থা পেয়ে যাবেন এখানে। তাই আর দেরি না করে ঘুরেই আসুন এবার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker