বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ কথাটির সত্যতা নিয়ে সংশয়হীনতাই শ্রেয় ৷ বাঙালীর চিন্তা, ধর্মকর্ম ও ধ্যানধারণার সঙ্গে উৎসবের যোগ নিবিড় ৷ ঈশ্বর গুপ্তের ভাষায় –
‘এত ভঙ্গ বঙ্গদেশে তবু রঙ্গে ভরা ৷’ তেরো পার্বণের কিয়দংশ পল্লীসমাজের আঞ্চলিক উৎসব সম্বলিত, যেমন বীরভূমের জয়দেবে কেন্দুলির মেলা, বর্ধমানের কাটোয়ায় কার্তিক লড়াই তদনুরূপ বর্ধমানেরই ক্ষীরগ্রামে বৈশাখী সংক্রান্তিতে যোগাদ্যা দেবীর পূজা ও মহামেলা ৷

পাঠকদের জানিয়ে রাখা ভালো কাহিনীটি আঞ্চলিক ভাবে সমাদৃত হলেও পৌরাণিক এবং এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস অনুসৃত লেখা ৷ এই পূজা সম্পর্কে বেশকিছু আজানা, অত্যাশ্চর্য ঘটনার গল্পপ্রবাহ প্রচলিত ৷
পৌরাণিক কাহিনী দক্ষযজ্ঞে সতী দেহত্যাগ করলে মহাদেব মৃতদেহ স্কন্ধে নিয়ে উন্মত্তবৎ নৃত্য করতে থাকেন, বিষ্ণু সেই দেহ চক্রদ্বারা ছেদন করেন ৷ সতীর মৃতদেহের খন্ডাংশ একান্নটি স্থানে পতিত হয় ৷ এই একান্নটি স্থান দেবীর পীঠস্থান নামে পরিচিত ৷ ক্ষীরগ্রামে সতীর দক্ষিণাচরণের অঙ্গুষ্ঠ পতিত হয়,তাই দেবীর পীঠস্থানগুলির অন্যতম ক্ষীরগ্রাম ৷ দেবীমূর্তি এখানে যোগাদ্যা ও ভৈরব ক্ষীরকন্ঠ রূপে পূজিত ৷
”ক্ষীরগ্রামে ডানিপাড় অঙ্গুষ্ঠ বৈভবঃ ৷
যোগাদ্যা দেবতা ক্ষীরকন্ঠকঃ ভৈরবঃ ৷৷”
( অন্নদামঙ্গল)
এ তো গেল পৌরাণিক কাহিনী ৷ এবার আসি ক্ষীরগ্রামস্থিত দেবী যোগাদ্যার পূজা কাহিনীর ইতিবৃত্ত উদঘাটনে উঠে আসা গল্পটির বর্ণনায় ৷ শোনা যায় একদা হরিদত্ত নামে এক রাজার সন্নিকট দেবীর আগমনে শুরু হয় এই পূজা ৷ সপ্তাহব্যাপী মহাধুমধামের মধ্য দিয়ে চলে ৷ কিন্তু অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি হল পূজা হত নরবলি দিয়ে ৷ রাজা সমস্ত পরিবারের জন্য নিয়ম চালু করেন , বলির নর প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্য প্রতি পূজায় ৷ স্বভাবতই শোকচ্ছায়া নেমে আসে প্রজাবর্গের মধ্যে ৷ নিয়মানুসারে একদিন পূজারী ব্রাহ্মণের পালা পড়ে, শোকগ্রস্ত একপুত্রী ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী ভোররাত্রিতে গ্রাম পরিত্যাগ করার চেষ্টা করে ৷ কিন্তু পথিমধ্যে দেবীর দর্শনে ও আশীর্বাদে তাঁরা গ্রামে প্রত্যাবর্তন করে এবং নরবলির পরিবর্তে শুরু হয় মহিষবলি ৷ দেবী হয়ে ওঠেন জগৎযামিনী মহিষমর্দ্দিনী ৷
পুরাণ গল্পগাথার পুঁথিপত্রের রোমহর্ষক কাহিনীর সাক্ষী বর্ধমান থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার কাটোয়ার নিকট এই গ্রাম ৷ বৈশাখী সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে আজও মহিষবলির মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয় ৷ পনেরো দিন যাবৎ প্রচুর ভক্তের জনসমাগমে পুণ্যস্থল ক্ষীরদীঘির পাড়ে মহামেলা হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র ৷
”ভূতধাত্রী মহামায়া ভৈরবঃ ক্ষীরকন্ঠকঃ ৷
যোগাদ্যা সা মহাদেবী দক্ষিণঙ্গুষ্ঠ পদে নমঃ৷৷”
(সংস্কৃত পীঠমালা)
West Bengal’s Great Electoral Erasure: অনিশ্চয়তায় ৯০ লক্ষ ভোটার! পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির হাওয়ায় এখন গণতান্ত্রিক উৎসবের…
কলকাতা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: India's Education Resetভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত বিতর্কিত…
Extra Marital Affair: বিয়ের আট বছর পর হঠাৎ করে তোমার পার্টনারের ফোনে লক প্যাটার্ন বদলে…
১২৭০ কোটি টাকার কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে CM Pema Khandu -র পরিবারকেই? ভারতের উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্য…
প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (PMKVY) চালু হয়েছিল এক বড় স্বপ্ন নিয়ে—দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা,…
হলদিয়াতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা শুরু হওয়া থেকে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া। বান্তলা থেকে ধান্তলা, ওদিকে…
This website uses cookies.