আমি রাগী ভীষন

হ্যাঁ, আমি রাগী ভীষন, জেদি ভীষন, ভীষন রকমের বদমেজাজি। সবসময় রেগে থাকি, কথা শুনাই সবাইকে অযথায়। কিন্তু এই যে রাগ, এই যে প্রতিটা মানুষের সাথে এমন ভাবে কথা বলা যেমন একটা জমা তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিতে চাই, এই সবের কারণটা কি হতে পারে এটা কি আদেও কেউ জানার চ্যাস্টায় নিমজ্জিত হতে চাই? কেউ কি ছোটোর থেকেই এমনটা হতে পারে? নাকি মানুষ তাকে এমটা বানায়?
আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন ভিষন প্রাণজ্জ্বল একটা মানুষ ছিলাম। সবাইকে হাসাতাম, বেশ মজাদার একটা মানুষ ছিলাম। জীবনে বন্ধু, পরিবার আর প্রিয় মানুষদের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতাম। তার পর যত দিন যায় তত যেনো রুপ বুঝতে পারি, বুঝতে পারি যে আসলে মানুষ হলো বহুরুপি প্রজাতির। তারা নিজেদের স্বার্থে রুপ বদলায়।

আমার জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে এমন কিছু প্রিয়োজন দের সঙ্গ পেয়েছি যাদের কাছে আমি ছিলাম শুধু মাত্র প্রয়োজন। বলতে লজ্জা নেই আমার যে আমি ভিষন রাগি বা বদমেজাজি হওয়ার আগে বোকা ছিলাম বা ইংরাজিতে বলতে গেলে ইমোসানাল ফুল। অল্পতেই দুঃখ পেতাম। শুধু ভাবতাম যে ” এমন করনো হয় আমার সাথে?” যতোবার আমি নতুন করে কাউকর বিশ্বাস করতে চেয়েছি ঠিক ততোবার আমার বিশ্বাস ভেঙ্গেছে। আজ থেকে ঠিক ৪-৫ বছর আগে যখন আমি আমাকে দেখি তখন আমার নজরে আসে একটা পথ হারানো পথিক, যাকে খুব ভালোবেশে, হাত ধরে একটা অজানা রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার পরে হাত ছেড়ে দেওয়া হয়।

আমি যখন আমার প্রথম ভালোবাসার স্বপ্নে নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলাম ঠিক তখনিই সে আবার অন্যজনের শরির আবিস্কারে ব্যাস্ত ছিলো।
আমি যাদের বন্ধু ভেবেছিলাম তারা আমাকে প্রয়োজন ছাড়া আর কিছুই বোঝে নি, আবার অনেকে ব্যাস্ত ছিলো বডি সেমিং করতে।
আমি আমার চলার পথে প্রতিটা মানুষ এমন পেয়েছি যারা শুধুই স্বার্থপর। আমার মন রোজ একটু করে কেউ না কেউ ভেঙেছে।

তাই এখন আর কউকে বিশ্বাস করি না, কেউ যদি কিছুদিন ভালো ভাবে কথা বলে তাহলে গলে যায় না, কেউ বাজে কথা বললে তীব্র প্রতিবাদ করি অনেক সময় তার মাত্রা বৃদ্ধিও পাই।
আচ্ছা একটা মানুষের চলার পথে যদি প্রতিটা মানুষ এমন পায় যারা তার বিশ্বাসের সাথে খেলেছে নিজেদের ইচ্ছা মতো, তাহলে সে কি আর সাহস পাবে কউকে বিশ্বাস করতে? সবাই শুধু এখন অভিযোগ করে যাচ্ছে যে আমি এমন আমি ওমন। সবার কছে শুধু পুতুল হয়ে থাকলে আমি ভালো প্রতিবাদ করলে আমি খারাপ।

এখন আবার অনেকে বলে আমি এমন কেনো!!
অনেকে বুঝে, আবার বেশিরভাগ মানুষই ভুল বুঝে। তাতে অবশ্য এখন আর আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু এটা হাড়ে হাড়ে বুঝি যে সবার কাছে আমাকে বোঝার মতো এতো ধৈর্যশক্তি নেই। আমি সবাইকে বুঝবো এটা আমার দায়িত্ব বা কর্তব্য কিন্তু আমাকে কেউ কেনো বুঝবে!! এতো ধৈর্য বা সময় কোথায় তার থেকে ভালো উপর উপর যে রাগ টা দেখা যায় সেটার জন্য শালাশি সভা বসিয়ে আমাকে আসামি করা হোক।

Facebook Comments Box
Rohit Paramanik

লিখতে আমি ভালোবািস, সাহিত্যের সাথে প্রেম করি। আপনার মনের অজানা কথা, কলম দিয়ে উজাড় করি। যদি জানতে চান আরো, আমার সৃষ্টিগুলো দেখুন, মনে রাখতে আমার নাম ডাইরির পাতায়, 'রোহিত' বলে লিখে রাখুন।

Recent Posts

West Bengal’s Great Electoral Erasure: অনিশ্চয়তায় ৯০ লক্ষ ভোটার!

West Bengal’s Great Electoral Erasure: অনিশ্চয়তায় ৯০ লক্ষ ভোটার! পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির হাওয়ায় এখন গণতান্ত্রিক উৎসবের…

2 months ago

India’s Education Reset: ২০ লক্ষ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়িয়ে?

কলকাতা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: India's Education Resetভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত বিতর্কিত…

2 months ago

Extra Marital Affair – বাড়ছে পরকীয়া, নাকি বদলাচ্ছে সম্পর্ক?

Extra Marital Affair: বিয়ের আট বছর পর হঠাৎ করে তোমার পার্টনারের ফোনে লক প্যাটার্ন বদলে…

2 months ago

১২৭০ কোটি টাকার পারিবারিক কন্ট্রাক্টে! CM Pema Khandu

১২৭০ কোটি টাকার কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে CM Pema Khandu -র পরিবারকেই? ভারতের উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্য…

2 months ago

PMKVY একটা জালিয়াতি!

প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (PMKVY) চালু হয়েছিল এক বড় স্বপ্ন নিয়ে—দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা,…

6 months ago

পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের CPIM সরকার

হলদিয়াতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা শুরু হওয়া থেকে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া। বান্তলা থেকে ধান্তলা, ওদিকে…

9 months ago