fbpx

ভোটগাড়ি

ভোট আসিয়া ভোট যায়; অধরা রহিয়া যায় শুধুই  সাধারণ মানুষের কাঙ্খিত আশাগুলি ৷ রাজনৈতিক দলাদলির টানাপোড়েনে সমাজটা  দ্বিধাবিভক্ত ৷ তবু একটা পরিচয় অস্বীকার যোগ্য নহে, তাহারা সাধারণ মানুষ৷ কখনও অযাচিতভাবে দরজায় ঠকঠক অথবা রাস্তায় কড়জোড়ে ভোটভিক্ষা সবই ভোটপূর্বের স্মৃতি, আবার পাঁচ বছর স্বভাবতই অদৃশ্য ৷ প্রতিশ্রুতির অপার সম্ভার, ঠিক যেন বাঙালীর চৈত্র সেল৷ হিংসা-প্রতিহিংসা, খুনোখুনি বা রাহাজানি তবু রাজার সিংহাসনটা চাই৷ ভোটের দিন কেহবা দেন ছোলামুড়ি তো কাহারও মস্ত দাওয়াই গুড়বাতাসা ৷ আজব খেলে মত্ত কিছু বিকৃত মস্তিষ্ক ৷ বাঙালী  চিন্তাধারা সম্পর্কে স্বর্ণযুগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বড্ড বেমানান লাগিলেও ইহাই সত্য ৷ ওহ্ থুড়ি ইহা ভোট নহে, গনতান্ত্রিক উৎসব বলিয়া কথা ৷ অধিকার প্রয়োগ করিতে টিপতে হইবে এক, দুই বা তিন ইত্যাদি সব বোতাম; ভুল করিলে ছাড় পাইবে না  তিন বছরের শিশু কিংবা আশি পার পৌঢ় ৷ পরিবর্তন হইয়াছে সত্যিই তবে লুঠতরাজের সমাজ দখল করিবার নেশার পারদ চরচর করিয়া বৃদ্ধি পাইয়াছে ৷ আবার বিপরীত মেরুতে কিছু কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের ভিড় ৷ এনারা শোষিত,বঞ্চিত, নিপীড়িতর নৈতিক শক্তি জাগড়ণে সদা প্রচেষ্ট ৷ হিটলার, চেঙ্গিস, মুসোলিনী বা অ্যাটিলার বলদর্পী রাঙাচক্ষুও ইতিহাসের পাতায় বিলীয়মান ৷ কাহাদেরবাই বলিতেছি, অপশক্তির আখড়া এসবের থোড়াই কেয়ার করিয়া চলে ৷ ভদ্রসভ্য দস্যুগুলি সহজ জীবনযাত্রা পর্যন্ত রক্তরঞ্জিত করিয়া তুলিছে ৷ মহাকালের আকাশে উহারা ক্ষমার অযোগ্য ৷ প্রতাপের রাজত্ব নিশ্চিহ্ন হইবে ৷ সিংহাসন ধূলিতলে হইবে বিলীন ৷ সাম্রাজ্যবাদীরা তখন ইতিহাসের উচ্ছিষ্ট – অর্থহীন কাহিনী ৷ শিশুপাঠ্যের দৈন্যদানার ভূতপ্রেতের গল্পের লাগিয়া মানুষের নিকটে অলীক বস্তু ৷ নব উন্মেষে উদ্বুদ্ধ সংঘবদ্ধ  গনশক্তির নিকট কাপুরুষ শোষকশ্রেণীর পরাভব একদিন অনিবার্য ৷ শক্তিদম্ভে নয়,  অত্যাচারে নয়; প্রেমের মূল্যে, স্নেহের মূল্যে, ভালোবাসার মূল্যে, শ্রেয়ের মূল্যেই মানবসভ্যতার সৌধ নির্মিত হইবে একদিন ৷ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হইবে গন-তন্ত্র ৷ সবকিছুর পড়েও ভোট আমি দেব, যতই হোক গনতান্ত্রিক অধিকার বলিয়া কথা ৷

ভোটে মন্ত্রী, ভোটে নেতা
ভোটই হল শেষ কথা ৷

Leave a Reply