fbpx
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি ভূতুড়ে স্থান – পর্ব ২

পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি ভূতুড়ে স্থান – পর্ব ২

প্রতিটা শহর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন কিছু পুরোনো বাড়ি, পুরোনো কারখানা কিংবা গোরস্থান থেকেই থাকে। যেগুলো ভূতুড়ে স্থান তকমা পায়।

শহরের মানুষ অন্ধকার নামার পর এসব স্থানগুলো এড়িয়ে চলেন।

এই পর্বে আমরা কালিম্পঙের এমনই একটা ভূতুড়ে স্থান সম্পর্কে আলোচনা করবো, যা হয়তো অনেকের কাছেই অজানা।

কালিম্পঙ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে অবস্থিত একটি পাহাড় ও বাগানে সুসজ্জিত একটি শহর।

মর্গ‍্যান হাউস হলো কালিম্পঙের ভূতুড়ে স্থান ( লোকমুখে প্রচলিত)। ১৯৩০ সালে কালিম্পঙের মতো সুন্দর জায়গাতে এই বাড়িটি তৈরি হয়।

মর্গ‍্যান হাউস প্রধানত তৈরি করা হয়েছিল জর্জ মর্গ‍্যান এর বিয়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করার জন‍্য।

তিনি যে মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি নীল রোপণকারী মালিক ছিলেন।

মর্গ‍্যান হাউস ছিল দম্পতির গ্রীষ্মকালীন বাড়ি। বাড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যেত। বিবাহ পরবর্তী এটা ছিল তাঁদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের বাসস্থান।

এই সুন্দর বাড়িটির ভূতুড়ে স্থান হবার পিছনের কারণ মিসেস মর্গ‍্যান।

কিন্তু দম্পতির সুখের দিন হয়তো বেশিদিন ছিল না। মিসেস মর্গ‍্যান বিয়ের কিছুদিনের মধ‍্যেই মারা যান। তারপর মর্গ‍্যান হাউসের দায়িত্ব নিয়েছিল একটি সংস্থা।

স্বাধীনতার পর মর্গ‍্যান হাউস ভারত সরকারের সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন এটি একটি আধুনিক হোটেল করে দেওয়া হয়েছে।

মিসেস মর্গ‍্যানের হঠাৎ মৃত‍্যুর পিছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেকে মিস্টার মর্গ‍্যানের অত‍্যাচারের কথা বলেছেন এবং তাই, তার অসুখী আত্মা এখনও ঘরে ঘুরে বেড়ায়।

মর্গ‍্যান হাউস ভূতুড়ে স্থান হবার কারণ হিসেবে ওপরের টাই ধরে নেওয়া হয়।

যদিও মিসেস মর্গ‍্যানের আত্মার কোনো চিহ্ন আজ অবধি পাওয়া যায়নি, তবুও অনেকে দাবি করেন সিঁড়ি কিংবা করিডোরে তাঁর হিল তোলা জুতোয় হেঁটে চলার শব্দ আতঙ্কে ঢেকে রেখেছে এই মর্গ‍্যান হাউসের প্রতিটা প্রান্ত।

যদিও এই হোটেল ভদ্রমহিলার ভূত দ্বারা সত্যিই ভীত হয় কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবুও পশ্চিমবঙ্গের মধ‍্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ভূতুড়ে স্থান এবং অনেকের কাছেই অজানা।

বলিউডের অনেক খ‍্যাতনামা অভিনেতা ও অভিনেত্রী এই হোটেলে থেকেছেন।

এই বাড়িতে তাদের থাকার প্রমাণ হিসাবে, লাউঞ্জ এলাকায় দেয়ালে প্রশংসাপত্রগুলি তৈরি করা হয়েছে।

তবে মনে একটু সাহস নিয়ে এমন এক সুন্দর  ভূতুড়ে  স্থান  এর অভিজ্ঞতা (সমস্তটাই লোকমুখে গুজব) নিতে কে বা না চাইবে!

বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশন এই বাড়িটি পরিচালনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *