fbpx
Special Story

সংজ্ঞা লেখ :- মা

ফেসবুক আসার আগে পর্যন্ত কবে যে মাদার্স ডে এসে চলেও যেত , বুঝতে পারতাম না । ফেসবুকের দৌলতে এখন প্রায় তিন চারদিন আগে থেকে জানতে পারি । তাছাড়াও থ্যাংকফুল রিয়াকশন , বিগবাজারের সেল , ফ্লিপকার্ট -আমাজন মিলিয়ে মাদার্স ডে এখন বাণিজ্যিক ভাবেও বেশ সাড়া ফেলেছে । এই সেলগুলো বাদ দিয়ে বাকিটা বেশ ভালোলাগে । সবাই কাঁচা হাতে দুএকলাইন লেখে মায়ের জন্য , মায়ের সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি তোলে , স্টোরি হয় , স্ট্যাটাস হয় । মাঝে মাঝে এই সব গুলোকে যে একেবারে ন্যাকামি বলে মনে হয়না , তা না । তবে মায়ের জন্য সব কিছু , মা নিয়ে সব ন্যাকামিই বৈধ । প্রতিবছরের মতো এ বারও ভাবলাম মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলবো , হ্যাপি মাদার্স ডে । কিন্তু পারিনি । পরীক্ষার হলের পেতে আসে মুখে আসে না কেস । যতবারই বলতে যাই ,
‘ আজ রোববার , যা আজ দাঁড়িটা কেটে আয় । ‘
‘ সকালে চাউমিন বানিয়ে দেব ? ‘
‘ সকাল থেকে এক মিনিটও পড়তে বসিসনি ! ‘
‘ মাছটা সর্ষে বাটা দিয়ে খাবি না আলু-বেগুনের ঝোল ? ‘
‘ এই চা নে , চা’টা খেয়েই পড়তে বসবি । ‘
‘ তাড়াতাড়ি স্নানে যা , দুটো বেজে গেল ! ‘
‘ এই জিও থেকে মেসেজ কিভাবে করে , শিখিয়ে দে না । ‘
‘ এখনই ঘর মুছেছি , ভেজা মেঝে পাড়ালে পা ভেঙে দেব । ‘
ইত্যাদি প্রায় গোটা পঞ্চাশেক বাক্যে থমকে গেছি । রান্নাঘর থেকে একটু আমের চাটনী তালুবন্দী করে বেরিয়ে এসেছি । দুপুরে খাওয়ার সময় বললাম , ‘ মা আজ মাদার্স ডে , আমি রান্না করে খাওয়াবো তোমায় । কি খাবে বলো রাতে ? ‘ মা বললো , ‘ তুই যা খাওয়াবি । ‘ সেই মুহূর্তে প্রথমবারের মতো অনুভব করলাম , মা কি খেতে ভালোবাসে , সেটাই তো জানিনা আমি । অথচ মা তো প্রতিটা মুহূর্তে আমার প্রিয় জিনিসটা বানিয়ে খাওয়ায় । আসলে মায়েরা সব জানে । কিন্তু আমি কতটা জানি মায়ের ব্যাপারে । কিসসু না । মায়েরা সবচেয়ে বেশি কাছের অথচ সবচেয়ে বেশি অচেনা । প্রেমিকার রাগ ভাঙাতে হয় , কিন্তু মা তো বেশিক্ষন রেগে থাকতেই পারে না । মার সাথে ঝগড়া হলে তো কথা বন্ধ হয়ে যায়না । মাকেতো হারিয়ে ফেলার ভয় নেই । মা একটা নিরাপদ ছাতা । এই ছাতায় ফুটো হয় না , এই ছাতায় মরচে পড়ে না , বাসের ভিড়ে হারিয়ে যায়না । মা একটা আশ্রয়ের নাম , মা একটা অনুভূতির নাম । মায়ের কোনো সংজ্ঞা হয় না । ডিকশনারিতে মাকে খুঁজে পাওয়া যায়না । খিদের সময় ভাতের থালায় মা থাকে , জ্বরের রাতে জলপট্টিতে মা থাকে , মনখারাপে আঁচলের আদরে মা থাকে , ভোরে ওঠার এলার্ম ক্লকের নাম মা , ঝড়ের রাতে ভয়ে জড়িয়ে ধরার নাম মা , রাত জেগে পড়ার সময় এক পেয়ালা কফির নাম মা , অকারণে ঝগড়ার নাম মা , আমার কালো ডেনিমটা কোথায় – এর নাম মা , মা…মা…মা… মায়ের অস্তিত্ব চোখ বুজেও টের পাওয়া যায় । মায়ের সংজ্ঞা বিজ্ঞান দিতে পারে না । শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দিলেই মা হওয়া যায় না । মা একটা সত্ত্বা । এর সাথে রক্ত বা জরায়ুর কোনো সম্পর্ক নেই । মা কে হয়তো মা নিজেও সবটা চেনে না । মা এমন একজন যাকে ছোঁয়া যায় , অনুভব করা যায় কিন্তু বোঝা যায় না । বুঝতে হবেও না । না বুঝেই ভালোবাসবো সারাজীবন । এই কখন যে ঘরের লাইটটা জ্বললো , ওই মায়েরই কাজ । এখন আবার চা খেতে ডাকছে । ভাগ্যিস ডাকলো , নইলে এই লেখা শেষ হতো না । মাকে নিয়ে লিখে শেষ করা যায় নাকি !!!

Show More

Tanmoy Das

কুশপুতুলে পুড়বো যেদিন, যেদিন আমার লেখা রাস্তায় পুড়িয়ে ফেলে স্লোগান দেওয়া হবে- সেদিন কবি বলব নিজেকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker