মনোযোগ- কিছু অজানা তথ্য

সাধারণত আমরা নিজেদের খুব গর্ব নিয়ে বলে থাকি আমরা Multi-tasker, একসাথে অনেক কাজে মনোযোগ দিতে পারি৷ কিন্তু চলুন, আজ একটু বিশ্লেষণ করে দেখি এ মতামত কতটা সঠিক৷

যে কোনো কাজ করতেই আমাদের মনোযোগ লাগে৷ সাধারণ অর্থে মনোযোগ কথাটি এমন ভাবে ব্যবহৃত হয় যাতে মনে হয় এটি মনের একটা গুণ৷ বিখ্যাত ফরাসী মনোবিদ Ribot (রিঁবো) বলেছেন- “Emotive process translated into action”. আসলে মনোযোগ যেমন মনের গুণ নয় তেমন আচরণও নয়৷ মনোযোগ কথার অর্থ- ‘মনকে একান্ত ভাবে যুক্ত করা’, এক্ষেত্রে সমার্থক হিসাবে ‘মনোনিবেশ’ শব্দটি ব্যবহার করা যায়৷

আমরা অনেকেই জানিনা যে, Multi-tasking’ আসলে ভুল ধারণা৷ কারণ মনোবিজ্ঞান বলে- আমরা কেউই একই সময়ে এক সাথে একাধিক কাজ করতে পারি না৷ কারণ আমরা মনোনিবেশ করতে পারি না৷ অনেক বছরের গবেষণা থেকে জানা গেছে , কোনো ব্যক্তি একসাথে একই সময়ে একটাই Cognitive কাজ করতে পারে ৷ উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আমরা একই সময়ে কিছু চিন্তা আর রান্না একসাথে করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর কারণ মনোযোগের অভাব৷ প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা একসাথে লিখি ও গান শুনি কি করে? আসলে আমরা খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এককাজ থেকে অন্য কাজে যেতে পারি (Switching) কিন্তু একসাথে দুটো কাজ করতে পারি না৷ আর এভাবেই নিজেদের Multi-tasker ভাবি৷

আমরা একই সাথে দুটো কাজ করার ক্ষেত্রে দুটোতেই সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে পারিনা কারণ আমরা মনোযোগ দিই কেবলমাত্র একটি বিষয়ে৷ যদিও দ্বিতীয় বিষয়টির উপর মনোযোগ না দেওয়াকে মনোযোগহীনতা বলে সম্পূর্ণ বিবেচনা করা যায় না৷ সাধারণত দেখা যায় যে, কোন শিক্ষার্থীর বিশেষ মুহুর্তে যখন শিক্ষকের বক্তব্যের উপর মনোযোগ থাকে না তখন ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য বিষয়ে মনোযোগ আছে৷

এবার চলুন দেখে নেই ঠিক কোন কোন শর্ত বা নির্ধারকের উপর মনোযোগ নির্ভরশীল (Condition of attention):-
(১) যখন কোন কাজ করাকালীন আচমকা কান্নার শব্দ ভেসে আসে, তখন তার উপরেই আমরা বেশী মনোযোগ দিই কারণ ‘কান্না’ নামক উদ্দীপকের পুনরাবৃত্তি৷

(২) ‘তীব্রতা’ মনোযোগের আরো এক শর্ত৷ তাই বাচ্চারা উজ্জ্বল রং যুক্ত খেলনায় বেশী আকৃষ্ট হয়৷

(৩) বিষয়বস্তুর ‘অভিনবত্ব’ মনোযোগের অন্যতম শর্ত৷ রাস্তায় একজন মানুষ সাধারণ ভাবে হেঁটে যায় আমরা অতটাও মনোযোগ দিই না কিন্তু যখন কেউ অভিনব ধরনের পোষাক পড়ে যায় সেদিকে আমরা অপেক্ষাকৃত বেশী মনোযোগ দিই৷

(৪) যখন আমরা পড়াশোনা করি তখন যদি মেঘ ডাকে আমরা চমকে যাই অর্থাৎ আকস্মিকতা মনোযোগের আরো এক শর্ত৷

(৫) প্রক্ষোভমূলক অবস্থা বা Emotional situation আরো এক জরুরী শর্ত৷ অর্থাৎ কোন স্থানে ভূমিকম্প জনিত কোনো কারণে মানুষ যখন দৌড়ে পালায় তখন তারা কাছাকাছির আশ্রয়স্থলে মনোযোগ দেয়৷

তবে হ্যাঁ, ব্যতিক্রমও আছে৷ আমরা একই সাথে শারীরিক ও মানসিক কাজ করতে পারি যেমন, আমরা হাঁটা ও কথা বলা একসাথে করি কারণ ছোটোবেলা থেকে এটাই অভ্যাস আমাদের৷ যদিও এ তত্ত্ব যথাযথ নয় কারণ এটা আমাদের অভ্যাস হলেও সম্পূর্ণ মনোযোগের অভাবে ফোনে কথা বলাকালীন রাস্তা পারাপার করার সময় দুর্ঘটনা আজকাল আকছার ঘটে৷

কি, বোঝা গেল তো Multi- tasking এর ধারণা কতটা ভুল? তাই আজ থেকে একটা কাজই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে নিঁখুত করে করুন৷ ভালো থাকুন ৷

Comments

comments

Post Author: Sayantika Banerjee

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *