fbpx
Special Story

প্রাণভয় পেয়েছেন কখনও? এক ভয়াবহ সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা

প্রাণভয় পেয়েছেন কখনও?

আমরা রোজ দৌড়াই কাজের খোঁজে। পেটের জ্বালায় শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চষে বেড়াই। ভগবানের থেকে প্রায়ই অন্যায্য দাবিদাওয়া গুলো চেয়ে বসি। রোজই ডাকবাক্স ভরে যায় আমাদের চাহিদার চিঠিতে। প্রাণভয় বলে যে ব্যাপারটার অস্তিত্ব আমরা বেমালুম ভুলে যাই।

আমরা নিজেদের ইচ্ছাগুলো এতটাই বাড়িয়ে নিই যে বাকি যেগুলো আছে সবগুলো ছোটো লাগে। যেমন ধরুন প্রাণ কিংবা প্রাণভয়।

তবে একদিন আগে আমি এই প্রাণভয় কে দেখতে পেয়েছিলাম… আমারই চলার পথে সে ওঁত পেতে বসেছিল। শেষটায় এমন হয়েছিল যেন… না গল্পটা শুরু থেকেই বলি।

বরাবরের একটু দেরি অবধি পড়াশোনা করার অভ্যাস আছে আমার। সেদিনেও তেমনি ছিল। সকাল থেকে পরীক্ষার চাপে মোটামুটি বিপর্যস্ত আমি শেষ বেলায় কিছুটা সময় পাই নিজের সাথে।

কাজের চাপে আমি চারপাশটা বিশেষ ধর্তব্যের মধ্যে আনিনা। তাই তখনও বুঝিনি বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের লাল রঙে, প্রাণভয় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।

ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আমি খাবার খাচ্ছি তখন। চারপাশটা মোটামুটি ফাঁকা তবে নীচে অনেকে আছে। হঠাৎই কয়েকটা ছেলেমেয়ে এসে করে গেটটা বন্ধ করে দিতে বলে। প্রাণভয় যে আগত তা বুঝেছিলাম।

ঝট্ করে টিফিন বক্সটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালাম। বাড়ি আমার তিনঘন্টার রাস্তা তাই জলটা ভরে নিলাম। বাথরুম থেকে বেরিয়ে নীচে নামতেই দেখি গেট বন্ধ। চারদিকে তখন ভয়ার্ত মুখ আর অস্ফুট চাপা গুঞ্জন। ভয় ধীরে ধীরে আমার মনেও গ্রাস করছিল একথা মানি।

রাস্তা নেই বেরোনোর। বন্ধ গেটের ওপারে দেখি তখন বিশাল বড় জটলা হয়েছে তাদের মুখে ভয় জাগানো বুলি। তাদের চাপে যেকোনো সময় গেটটা ভাঙতে পারে তাই আমি দৌঁড়তে শুরু করলাম। প্রাণভয় পিছু নিয়েছে আমার।

প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি মাথায় আঘাত করবে কেউ বা হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবে। ছুটতে ছুটতে আশেপাশে চোখ যায় সবার মুখেই তখন প্রাণভয় লেগে। কোনোরকমে ছোট একটা গেট দিয়ে বেরোই।

ঘামেতে সারা শরীর ভিজে, পা দুটো থরথর করে কাঁপছে। প্রতি মূহুর্তে মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে পড়ে যাব রাস্তাতেই। প্রাণভয় তখন সারা শরীর অবশ করে দিয়েছে আমার।

আমার কী দোষ ছিল? পড়তে গেছিলাম আমি। কোনো বিষয় জানতাম না। আমি এবং আমার মত অগুনতি সবাই সেদিন আটকে পড়েছিল ভিতরে। সেই দিনের পর থেকে একটা জিনিস শিখেছি। প্রাণটা আছে, ভগবান এটুকু দিয়েছে তাতেই খুশি। বেশি লোভ করলে প্রাণভয় আমার অন্তরের গেট ভাঙতে পারে।

Show More

Shaheli Baidya

Describing me is not so easy, though I can try with few fragments of words. Masters student in Jadavpur University, cute innocent face, intelligent from inside, a good speaker with stammering issues, sort of anger issues, sort of over thinking issues and sort of imagination issues of those non-existential situations. Thank you, for keeping patience and read this whole thing.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker