fbpx

চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে দেখা, কলকাতার গর্বের পঁচিশ

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবার পঁচিশতম বর্ষে পদার্পণ করল। এবারের ফোকাস কান্ট্রি ছিল জার্মানি। ডকুমেন্টারি ফিল্ম, শর্ট ফিল্ম ও পূর্ণ ফিল্ম নিয়ে প্রায় দুশোর কাছাকাছি ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।

মূলত নন্দন চত্বরে চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারেও তার অন্যথা ছিল না। যদিও প্রথম থেকেই এবারের ফেস্টিভাল নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেন কোর কমিটি থেকে ইস্তফা দেবার পরেই বিতর্কের সূত্রপাত। পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। তবে শেষমেশ রাজ চক্রবর্তী এই পদ গ্রহণ করেন।

যেহেতু বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পুরানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতাগণ এই চলচ্চিত্র উৎসব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন, তাই প্রথম থেকে রাজের উপর বাড়তি একটা প্রেশার তো ছিলই। তাছাড়া একাজে তার প্রথম হাতেখড়ি হচ্ছে, সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব থেকেই যায়।

নন্দন চত্বরে মোট পাঁচটি হলে চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছিল – নন্দন1, নন্দন2, নন্দন3, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র সদন। সিনেমাগুলি সাধারণত পাঁচটি শিফ্টে দেখানো হয়। প্রতিটি সিনেমার জন্য পাস বা টিকিট সিনেমা শুরু একঘন্টা আগে থেকে কাউন্টারে পাওয়া যায়। নন্দন হলগুলির ও রবীন্দ্র সদনের টিকিট একজায়গার পাশাপাশি কাউন্টারে পাওয়া যায়। শিশির মঞ্চের টিকিট আলাদা কাউন্টারে পাওয়া যায়। টিকিটের লাইন এত বেশি পড়ে যে সিনেমা শুরুর প্রায় দুঘন্টা আগে থেকে ভিড় জমে যায়।

চলচ্চিত্র উৎসব প্রাঙ্গণের এককোণে খাবার ব্যাবস্থা হয়েছিল। খাবারের গুণগতমান খানিকটা উন্নতমানের হলেও দাম বেশ উর্ধ্বমুখী ছিল। আর সবথেকে সমস্যা যেটা দেখা গিয়েছিল সেটা হল পানীয় জল নিয়ে।

এবারে চলচ্চিত্র উৎসবের ষষ্ঠ দিনে শ্রীজিত মুখার্জি, আবীর চ্যাটার্জি, পাওলি দাম, শুভশ্রী গাঙ্গুলী, সোহম, চিরঞ্জিৎ, শ্রাবন্তী এবং স্বয়ং রাজ চক্রবর্তী স্টেজে হাজির ছিলেন। উৎসব আরম্ভের দিনে অমিতাভ বচ্চনের অনুপস্থিতি হয়তো পরের দিনগুলোয় এক্সট্রা তারকাদের উপস্থিতি দিয়ে মেটাতে চেয়েছেন রাজ।

তবে এবারের চলচ্চিত্র উৎসব যে কয়টি দিক উঠে এসেছে তা হল। প্লাস্টিক এর বাড়বাড়ন্ত হ্রাস, এবারে আবর্জনা প্রায় দেখাই যায়নি। উৎসব প্রাঙ্গণ মোটামুটি পরিষ্কার ছিল। সেলফি জোন এবারের অন্যতম আকর্ষণ। জেন ওয়াই কে আকর্ষণ করতে এই স্পটটি ভালোই কাজে দিয়েছে। এছাড়া নানারকম ছোটোখাটো ক্যুইজও ছিল।

চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান সমস্যা যেটা সমাধান করা দরকার সেটা হল, তথ্যের অভাব। সাধারণ মানুষ যারা প্রথমবার উৎসবে যাবেন তারা রীতিমত কনফিউজড্ ও হকচকিয়ে যান। আমার মনে হয়, কোন হলে কী সিনেমা চলছে এবং সেই সিনেমার টিকিট বা পাস কোথা পাওয়া যাবে, টিকিট কটা থেকে দেওয়া শুরু এবং তার সংখ্যা কত অর্থাৎ কতজন তা পাবেন, কটায় টিকিট দেওয়া বন্ধ হবে – এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিশ নিয়ে একটা হ্যান্ডপেপার বেরোনো উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ কনফিউজড্ না হয়। এই সমস্যার ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং মানুষ সিনেমা না দেখেই ফিরে যান।

ওভারঅল পঁচিশতম চলচ্চিত্র উৎসব বেশ সফল তবে কিছু কিছু খামতি রয়েই যায় যেটা ভবিষ্যতে শোধরানোর প্রচেষ্টা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *