I got a story to tell

Psychopathy

Psychopathy – নামটা শুনে মানসিক রোগ সংক্রান্ত জাতীয় যে কিছু তা বুঝতে অসুবিধে নেই যদিও কিন্তু এর উৎসটা বললে বুঝতে আরেকটু ভালো লাগবে।
১৮০০ সনের প্রথম দিকে, কিছু ডাক্তার বিভিন্ন মানসিক রোগীদের সাথে কাজ করতে করতে এমন নজিরবিহীন দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পেলেন যেখানে তাদের কিছু রোগী যারা বাইরে থেকে পুরো স্বাভাবিক হলেও মানসিক ভাবে আক্রান্ত। 1900 এর দশকে প্রথমবার “psychopath” শব্দটি ব্যবহৃত হয়। 1930-এর দশকে এই শব্দটি ‘psychopath রোগীদের দ্বারা সমাজে যে ক্ষতি হচ্ছে’ তার উপর জোর দেওয়ার জন্য “sociopath” রূপে পরিবর্তিত হয়েছিল। বর্তমানে গবেষকেরা আবার “psychopath” শব্দটিই ব্যবহার করেন।
মনোবিদ্যা বা  Psychopathy বরাবরই মানব সমাজের অভিন্ন অংশ ছিল যা পুরাকালের কাহিনী এবং সাহিত্য থেকে স্পষ্ট হয়। ১৯ টা গ্রীক এবং রোমান পুরাণ বিভিন্ন psychopaths-দের কাহিনীর সাথে আকীর্ণভাবে যুক্ত, এদের মধ্যে Medea সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। ২০ টা psychopaths বাইবেলের সঙ্গে যুক্ত যেখানে ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম সাইকোপ্যাথ কাহিনী হল Cain । সাইকোপ্যাথ সব সংস্কৃতির সাহিত্যে একটি অবিচ্ছিন্ন প্রবাহে আবির্ভূত হয়েছে।
কোন সংস্কৃতিই Psychopathy-এর হাত থেকে মুক্তি পায়নি। মানসিক রোগের চিকিৎসার সংক্রান্ত হারভে ক্লেকলির একটি গবেষণাপত্রের বলা হয়েছে যে এথেনীয় জেনারেল আলসিবিয়েড সম্ভবত একজন psychopath ছিলেন। কিন্তু psychopaths-রা সাধারণত খুব সাধারণ পরিবার থেকেই আসে এবং ক্লেকলি এই সাধারণ রোগীদের সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লেখেন যারা গুরুতর আকারের সাইকোপ্যাথ রোগী ছিলেন এবং তিনি তাদের বিষয়ে মনে করতেন যে- “এরা স্পষ্টতই যে কোনও সম্প্রদায়ের জীবনের জন্যই অনুপযুক্ত; আমার মনে হয়, বেশিরভাগ রোগীর মতনই এরাও সিজোনোফ্রেনিক মনোবিজ্ঞানের শিকার।”
এবার ইতিহাসের কিছু বিখ্যাত সাইকোপ্যাথ রোগীদের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
১৯ শতকের শেষ দশকের সানফ্রান্সিসকোতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিচক্ষন স্ত্রী ছিলেন কর্ডেলিয়া বটকিন। পরবর্তীকালে  তিনি (৪১ বছর বয়সী), জন ডিনিং (৩১) সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ডিনিং (যিনি কংগ্রেস পার্টির একজন প্রাক্তন সদস্য এর কন্যার সাথে আগেই বিবাহিত ছিলেন) তার সঙ্গে একটি তীব্র সম্পর্কে প্রবেশ করেন এবং অবশেষে তিনি তার আগের স্ত্রী-পরিবারকে ত্যাগ করে জুয়া, মদ্যপান এবং যৌনতায় লিপ্ত হোন যার পুরো অর্থবহন করতেন বটকন। কিন্তু কিছু সময় পর অবশেষে ডিনিং ব্যাপারটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার স্ত্রীয়ের কাছে ফিরে আসেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে বটকন Dunning এর স্ত্রীকে উপহারের বাক্সের মতন দেখতে  বিষাক্ত candy ভরতি একটি বাক্স পাঠান। Dunning এর স্ত্রী, পাঁচ বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা সেটি খাওয়ার পরে উদ্ধার হলেও তার স্ত্রী ও তার বোন মারা যান। বটকন অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাদণ্ডে দন্ডিত হন কিন্তু কাহিনীর একটি অদ্ভুত ঘটনা জানা যায় যখন বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে শহরের বাইরে কেনাকাটা করতে দেখা যায়; একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বটকিন তার নিজের শরীরের যৌন favors-এর বিনিময়ে জেল ত্যাগ করেছিলেন। অবশেষে ৫৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ ছিল: “বিষণ্নতার কারণে মস্তিষ্কে ক্ষতি।”
আরেকটি উদাহরণ হল – ক্রিম নামে একজন ডাক্তার যিনি গোপনে গর্ভপাত করতে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ক্রিম স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, লন্ডনে শিক্ষিত এবং প্রথমে কানাডায় এবং পরে শিকাগো, ইলিনোসিসে থাকেন। ১৮৮১ সালে, তিনি তার বেশ কয়েকজন রোগীকে বিষ প্রয়োগে জঘন্যভাবে বিষ দেওয়ার জন্য দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে হত্যার কোন সন্দেহ ছিল না, কিন্তু ক্রিম নিজেই সবকটা শরীরের পরীক্ষার দাবি জানায় যাতে তার দিকে সবার মনোযোগ যায় এবং শেষে ইলিনো়সিস প্রদেশের কারাগারে তাকে আটক রাখা হয়। ১৮৯১ সালের ৩১শে জুলাই তিনি তার ভাল আচরণের জন্য মুক্তি পান। লন্ডনে চলে আসার পর, তিনি হত্যাকাণ্ড (বেশিরভাগ বেশ্যা বা পতিতা) পুনরায় চালু করেন এবং শীঘ্রই গ্রেফতার হন। ১৫ ই নভেম্বর, ১৮৯২ তারিখে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। Hangman(যে আসামীকে ফাঁসিতে চড়ায়)-এর মতে, তাঁর শেষ কথাগুলি  ছিল “আমি জ্যাক” যার অর্থ “জ্যাক দ্যা রিপার” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশদ আলোচনা এবং উদাহরণের পরে বলা যায় এরা একটা মনোরোগ যার উৎপত্তি হয়তো depression, irritation, frustration বা অন্য কিছু থেকে আসে কিন্তু এর শেষটা হয় ভয়াবহ। তাই সমস্ত পাঠককে আমার অনুরোধ নিজের বা অন্যকারুর মধ্যে কোনোরকম মানসিক রোগের বিকাশ দেখলে psychiatrist-এর সাথে যোগাযোগ করুন নয়তো এর দাম হয়তো সমাজকে আপনার বা আপনার আপনজনের জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে।।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker