শুভস্য শীঘ্রম

সকাল সকাল তিতলির ঘুমটা ভাঙলো ওর মা‐বাবার কথা ও হাসাহাসিতে। দুজনের মধ্যে কি নিয়ে কথা হচ্ছে প্রথমে বুঝতে না পারলেও একটু শোনার পরেই তিতলি বুঝতে পারলো বিষয়টা ওর বিয়ে সংক্রান্ত। হঠাৎই ও শুনতে পেল ওর মা ওর বাবাকে বলছে শুভস্য শীঘ্রম বুঝলে। মা-বাবা অবশ্য ওর আর সৌম্যর সম্পর্কের কথা সবই জানে তাই হয়তো ওদের বিয়েটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলা নিয়েই কথা বলছে এমন ভাবতে ভাবতে হঠাৎই সৌম্যর ফোনটা দেখে তিতলি একটু অবাক হল যদিও সাথে সাথেই ও ফোনটা ধরে হ্যালো বলল আর ওপার থেকে শুনতে পেল সৌম্য বলছে শোন আজ সাড়ে বারোটায় দেখা কর শ্যামবাজারে। তিতলি কিছু বলার আগেই সৌম্য আবার বলে উঠলো কিরে এখনো ঘুম থেকে উঠিসনি? শুনতে পাচ্ছিস আমার কথাটা! তিতলি বললো এইতো উঠবো কিন্তু আজ সোমবার তুই যে কালকে বললি আজ ছুটি নিতে পারবি না। সৌম্য বলল তুই ওসব ছাড় আমি ছুটি নিয়ে ফেলেছি আর ঠিক সাড়ে বারোটায় চলে আসবি শ্যামবাজারে, রাখলাম এখন। সবটা শুনে তিতলি ফোন রেখে দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলো আর তাড়াতাড়ি করে তৈরি হলো শ্যামবাজার যাবে বলে।

ঠিক বারোটা কুড়িতে শ্যামবাজার পৌঁছে গেল তিতলি, এবং তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এসে গেল সৌম্য। তিতলি ওকে দেখে বলল কিরে কোথায় যাবি? সৌম্য বলল তোকে আজ একটা জায়গায় নিয়ে যাব চল। তিতলি ও সৌম্যর সম্পর্কের আজ পাঁচ বছর পূর্ণ হল, ওরা দুজন দুজনকে বিয়ে করতে চায়। হঠাৎ সৌম্য তিতলির হাত ধরে বলল চল আজকে তোকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব। তোকে তো বলেছি বাবা‐মা অনেকদিন থেকেই তোর সাথে দেখা করতে চায় তাই ভাবলাম তোকে আজকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই। চারজনে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে আর সাথে কিছু কাজের কথাও হবে।

কথাগুলো শুনে তিতলি এতটাই আনন্দিত ও অবাক হল যে ওর চোখে জল এসে গেল, সেই দেখে সৌম্য তিতলির গাল টিপে বলল ওরে পাগলি পাঁচটা বছর ঝগড়াঝাটি করে ভালোবেসে এভাবেই কাটিয়ে দিলাম এবার বাকি জীবনের পথটাও তো একসাথে চলতে হবে নাকি। সেই কথা বলতেই তো তোকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এরপর একদিন তোদের বাড়ি গিয়ে আমরা সবাই পাকা কথা বলব আর তারপরই শুরু হবে বিয়ের প্রস্তুতি বুঝলি পাগলি, এবার চল। সৌম্যর হাত ধরে রাস্তা পার হতে হতে তিতলি মুচকি হেসে আস্তে করে বলল একেই মনে হয় বলে শুভস্য শীঘ্রম।