জয়িতা- দ্বিতীয় পর্ব- তুমি বলতে পারি?

AFTER THE FIRST PART-

আমার হাতটা যেন আপনেআপ চলে গেল–
”হ্যালো, আমি অবিনাশ।”
আমি জানিনা কেন আমার সাথে এরকম হচ্ছিল কিন্তু সেই স্পর্শের অনুভূতিটা অসাধারণ ছিল। আমি প্রায় চোখ হাটাতেই পারছিলাম না জয়িতার থেকে। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছিলাম তার স্পর্শটাকে। ওই প্রথমের ১২ সেকেন্ড অসাধারণ ছিল…
“তো আপনিই তাহলে সবেমাত্র এসে ঢুকেছেন?” জয়িতা বলল।
গলাটা শুনে যেন ঘোর থেকে উঠলাম। ইহ জগতে যেন পা রাখলাম সবেমাত্র। এক বিরল রূপঘনত্বে ডুবে গেছিলাম। আওয়াজটা টেনে তুলল আবার।

“হ্যাঁ? কি বলছেন?” আমি ঘুরে প্রশ্ন করলাম।

-“বলছি আপনিই তাহলে সবেমাত্র এসে ঢুকেছেন?” জয়িতা বলল।
-“হ্যাঁ। বেশিদিন হয়নি আসা। কেন বলুন তো”
– “বলতে পারি তবে একটা শর্তে’’
আমি থতমত খেয়ে গেলাম “শর্ত” কথাটা শুনে। এই সবেমাত্র তো দেখা হল। এর মধ্যেই শর্ত। আমি মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে বললাম-

-“শর্ত?? কি শর্ত?”
-“আপনি যদি আমার হাতটা ছাড়েন তো!”
আমি তখন ওই পরিস্থিতিতে কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এতটাই নিজেকে সংযিত মনে হচ্ছিল যে আমি সঙ্গে সঙ্গে হাতটা নিজের দিকে টেনে নিলাম। আর আমি তাকাতে পারছিলাম না জয়িতার দিকে। হালকা নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম-

“I am Extremely sorry. আমি খেয়াল করিনি।”
জয়িতা তখন আমার নিচু চোখের দিকে ঝুকে তাকিয়ে দেখল, আর হেসে বলল-

“It’s okay…অতও sorry feel করার কিছু হয়নি, মাঝে মাঝে হয়ে থাকে। I can totally understand.”
আমি কিছু কুলকিনারা খুঁজে না পেয়ে হালকা হাসিই বিনিময় করলাম।

“আচ্ছা কারণ টা তো বললেন না”- আমি প্রশ্ন করলাম।
-“ও হ্যাঁ। আসলে আপনি সবেমাত্র এসেছেন তার ওপর আমার কাজের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে বেকার বেকার, খুব খারাপ লাগছে বিশ্বাস করুন। আমি তার জন্য আগের থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি”

-“ও বাবা…তাতে কি আছে। আসলে আমার দায়িত্ব নিতে খুব ভালো লাগে। আপনি ওসব কিছু মনে করবেন না”

-“অশেষ ধন্যবাদ। চাপ মুক্ত হলাম”- বলে জয়িতা আবার হাসল।

তারপর আমরা দুজনেই গাড়ির দিকে চলা শুরু করলাম। গাড়ি তে বসে আমি জয়িতার দিকে তাকিয়ে বললাম-
“এ বাবা… এখনও তো জানলামই না তুমি যাবে কোথায়?” কথাটা বলেই জিভ কাটলাম আমি। তারপর আবার বললাম-

“আমি তুমি বলে ফেললাম। তুমি বলতে পারি?”