কেন মেঘ আসে… (পর্ব- ১)

ভালোভাবে খোঁজখবর নিলে দেখা যাবে- প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন বয়ফ্রেন্ডই তার গার্লফ্রেন্ডের বেস্টফ্রেন্ডকে সহ্য করতে পারে না। আমিও বিকল্প নই, তাই আমিও মেঘকে একদম সহ্য করতে পারি না।
মেঘ হল অনুর বেষ্টফ্রেন্ড। আমার সাথে অনুর সম্পর্ক হওয়ার বছরখানেক আগে থেকে নাকি মেঘের সাথে তার এই বেস্টফ্রেন্ডশিপ হ্যাপিলি রান করছে। আমার সাথে অনুর সম্পর্কও সেরকম হ্যাপিই থাকতো যদি না মেঘ এসে আমার আকাশটাকে পুরো ওভারকাস্ট করে দিয়ে যেত। সম্পর্কটা প্রথম প্রথম ভালো কাটলেও আজকাল সপ্তাহে নিয়ম করে দু’বেলা ঝগড়া হয়, কারণটা ওই মেঘ। অনুকে একবার বলেছিলাম তিনজন মিলে কোথাও দেখা করে তাকে বুঝিয়ে বলবো সমস্যাটার ব্যপারে…
কিন্ত অনু রাজী হয় নি; ওর মতে মেঘ এসব জানলে এত দুঃখ পাবে, এতই দুঃখ পাবে যে আমার সাথে যতদিন অনুর সম্পর্ক থাকবে, ততদিন মেঘের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর আজকের ললনাদের বয়ফ্রেণ্ড থাকুক চাই না থাকুক, বেস্টফ্রেন্ড থাকা চাইই চাই। অগত্যা আমাদের মধ্যে নিয়মিত দু-বেলা ঝগড়া বাঁধে সম্পর্কের এই তৃতীয় ব্যাক্তিটিকে নিয়ে।

আজও ঝগড়া হয়েছে, তবে আজ ব্যাপারটা অন্যরকম, মানে এখানেই হয়তো সম্পর্কটা শেষ! কারণ অনু আজ নিজের মুখে স্বীকার করেছে যে ও মেঘকেই ভালোবাসে, আর আমার সাথে নাকি চার মাস ধরে টাইম পাস করছিল। আমিও কিছু বলতে যাচ্ছিলাম কিন্ত অনু অন্য কাউকে খুঁজে নিতে বলেই মুখের উপর ফোন কেটে দিয়েছে। রাগে গজগজ করতে করতে দুবার কলব্যাক করেছিলাম, তোলে নি।
আসল রাগ তো ছিল মেঘের উপর। ইচ্ছে হচ্ছিল কাঁচা কাঁচা কিছু খিস্তি লিখে পাঠাই ওর ইনবক্সে, তবে ইগো প্রবলেমের জন্যে আমি এবং মেঘ কেউই কাউকে এখনও অবধি পিং করিনি।
মেঘ আমার ফ্রেন্ডলিস্টে নেই, তবে তাকে স্টক করি নিয়মিত। মেঘও হয়তো তাই, কিন্তু ছেলেটা ভীষণ চালাক। ও নিজেও আমাকে সহ্য করতে পারে না, তবে আমার মতো বোকামি করে তা অনুকে কখনো বলেনি।
তাই অনুর কাছে ও চিরকালীন সোনা ছেলে।
খেয়াল করলাম আমি অনুর থেকে মেঘকে নিয়েই বেশি ভাবি (আর যতই ভাবি ততই শরীরের রক্ত গরম হয়ে ওঠে) আজকাল, ব্রেক আপের পর কোথায় অনুর জন্যে কষ্ট পাবো, দুঃখ করবো…
তা নয়, মেঘকে নিয়েই ভেবে যাচ্ছি এখনও…

অবশেষে অনেক ভেবে ঠিক করলাম হাসিমুখে সবটা মেনে নেব। অনুকে আর ডিসটার্ব করবো না। মেঘ আর অনুর বিয়েতে পেট ভরে বিরিয়ানি খাবো, মেঘকে হানিমুন টিকিট গিফট করবো আর অনুকে একটা প্রেগনেন্সি কিট। আরও কত কিছুই যে ভাবলাম সেসব এখন মাথায় আসছে না। ক্ষিদে পেয়েছিল খুব। শুনেছিলাম ব্রেক আপের পর খাওয়া এবং ঘুম দুইই উড়ে যায়। আমিও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু মা মেটে চচ্চরী বানিয়েছিল আজ। প্রয়োজনের থেকে একটু বেশিই খেলাম; তারপর সোজা বিছানায় গিয়ে ঘুম।
কি যেন একটা স্বপ্ন দেখছিলাম তবে সেখানে অনু বা মেঘ কেউই ছিল না। হঠাৎ ঘুম ভাঙলো সন্ধ্যেবেলায়, ব্রেক আপ হয়েছে মনে পড়তেই মোবাইলটা হাতে নিয়ে ডাটা অন করলাম। হোয়াটস্যাপ খুলে দেখলাম অনু চারটে ছবি পাঠিয়েছে। মেঘের সাথে। চারটেই একইদিনে তোলা আর একই পোজে…মেঘ সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে আর অনু পেছনে দাঁড়িয়ে হাসছে, হাসলে অনুকে ভীষণ সুন্দর দেখায়।
ছবিগুলো দেখে এবার মাথা গরম হয়ে গেল। অনেকক্ষণ ধরে কি সব টাইপ করলাম, তারপর মনে হল যে সরেই যখন এসেছি তখন এসবের কোনো মানে হয় না।
শুধু সিন করেই রেখে দিলাম।
অনুর ডিপিও দেখলাম মেঘের সাথে, স্ট্যাটাস দিয়েছে- ‘বন্ধুত্ব যখন প্রেমকে ছাপিয়ে যায়…’।
সবটাই হয়তো আমাকে দেখানোর জন্যে, যদিও আমি এইসব ভারী ভারী লেখার মানে বুঝতে পারি না কোনোদিন।
ইচ্ছে হচ্ছিল আমিও ডিপি চেঞ্জ করে অন্য কোনো মেয়ের সাথে ছবি দিই কিন্তু আমার সেরকম সুন্দরী বান্ধবী নেই। অগত্যা রোনাল্ডোর একটা ছবি ডিপি করলাম, স্ট্যাটাস দিলাম- ‘হালা মাদ্রিদ’।

Comments

comments

Post Author: Samrat Sarkar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *