মেয়ে কে এতো পড়াশোনা করিয়ে কী হবে?সেই তো বিয়ের পর রান্না করেই সংসার করতে হবে।(চায়ের কাপটা টেবিলে রাখতে রাখতে বললেন সালমা বেগম) কেন মা এই কথা বলছেন?(রেহানা পারভীন ) না মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করিয়ে কী হবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নিয়েছে অনেক আছে।ওইসব কলেজ পড়িয়ে কী হবে। তার থেকে ভালোContinue Reading

সন্ধে নামতে তখনও দেরি ছিল। এমনিতে গাঁয়ের উত্তরপ্রান্তে নাকি শীতটা একটু বেশিই পড়ে। একে তো সন্ধে হলে এদিকে আলো-টালোর নামগন্ধ থাকে না। অন্যদিকে এক পশলা বৃষ্টি নেমে সমস্যাটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ জায়গায় মেঘ করলেই রাস্তায় জল জমে। বাক্যটা এখানকার জলহাওয়ার সাথে খাপে খাপে মিলে যায়। অন্তত লোকে তাই বলে।Continue Reading

কলিংবেলের শব্দে ছুটে এসে দরজা খুললে পাটের তৈরী ব্যাগটি এগিয়ে দেয় একটি মেয়ে, হাসি মুখে শ্রীপর্ণা বলল – “ইস্ত্রি করা কাপড়গুলোর টাকা বিকেলে দোকানে দিয়ে আসবো।” নিস্পাপ মুখের কোণে একফালি হাসির সাথে মাথা নাড়িয়ে চলে যায় মেয়েটি। শ্রীপর্ণা বাড়ির ছোটো মেয়ে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে সে। সন্ধ্যাবেলায় প্রজেক্টের কিছু সরঞ্জাম কিনতে গিয়েContinue Reading

আজ পঁচিশ বছর পর আবার দেখা, প্রীতির পরনে একখানি ধুসর-নীলের শাড়ী, যতোই হোক বয়সতো বেড়েছে, আর সৌমিত্র তো আগাগোড়া বড়ো সাদামাটা, সেই পাঞ্জাবীতেই সীমাবদ্ধ। হটাৎ সামনাসামনি দিঘার সমুদ্র সৈকতে, চোখাচুখি হতে খানিকটা থতমত খেয়েই দুজন চোখ সরিয়ে নিয়েছিলো, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের সামলে আবার তাকিয়েছিল একে অপরের দিকে!! এই পঞ্চাশেরContinue Reading

-“বিয়েটা পেছোতেই হবে রে মিতিল, এই পরিস্থিতিতে বিয়েটা করা কিকরে সম্ভব বল!” -(অনুচ্চ দীর্ঘশ্বাস) “জানিরে অভি, এখন আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন ফিল্ডে সামনে থেকে কাজ করা, afterall it’s an emergency.” -“সেই, আর এতদিন যখন দুজন সবটা হাসিমুখে সামলেছি তখন না হয় আর কটা দিন ও পারবো, কি বলিস?! জানিসContinue Reading

সকালে বাজার করতে যাওয়ার সময় বর্ষার মা কল্পনা দেবী ওকে ডেকে বলল -” বর্ষা মা, তোর মাসি খুব অসুস্থ,তাই আমি দেখতে যাছি। বাজার করে নিয়ে এসে তোর ইচ্ছে মতো রান্না করে, ঠাম্মী আর রিমঝিমের সাথে খেয়ে নিস।” -” আচ্ছা মা ঠিকাচ্ছে, তুমি সাবধানে যেও।” …কিছুক্ষণ পরে কল্পনা দেবীও রওনা দেয়Continue Reading

ছবি- google

জীবনে অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়। কেউ কেউ চিরস্থায়ী হয়ে থেকে যায়, কেউ আবার ক্ষণিকের জন্য। কিন্তু তা বলে কি আমরা তাদের ভুলে যেতে পারি বা ভুলে যাওয়া যায়? কখনোই না। স্মৃতির আস্তরণে ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। তবে কখনো প্রয়োজন হলেএকটু ঘষা মাজা করলেই সেই আস্তরণ ঠিক কেটেও যায়।Continue Reading

কখনো কখনো এমন কিছু মূহুর্ত আসে যখন মনে হয় এবার সবটা শেষ‌। এবার আর ফেরার পথ নেই, নেই কোনো বিকল্প রাস্তা, নতুন করে শুরু করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সবটা তখনও শেষ হয় না। হয়তো কিছুদিন খারাপভাবে কাটে, বড্ড গুমোট হয় দিনযাপন, তবে এসবের মাঝে কিছুটা সময় নিজের সাথে কাটে।Continue Reading

সরস্বতী পুজো মানেই একরাশ নস্টালজিয়ার পাহাড়। মায়ের কাছে শাড়ি পরিয়ে দেবার বায়না, সেজেগুজে ইস্কুল যাওয়ার উত্তেজনা, বন্ধুদের সাথে একসঙ্গে বসে খাওয়া আরো কত কী! সেই একটা দিন যেন স্যার বা দিদিমণিরা হয়ে যেতেন একদম খোলামেলা। পুজোর কিছুদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত। বন্ধুরা মিলে আল্পনা দেওয়া, ঘর সাজানো, কাগজContinue Reading

IMG_27012021_003752_(600_x_400_pixel)-586169d5

‘পিছুডাক’ নাকি বড্ড বাজে জিনিস! যাত্রার সময় পিছুডাক শোনা মাত্রেই, সে’দিনের সব কাজ নাকি ভন্ডুল হয়ে যায়! সবটাই যদিও শোনা কথা, তবু… যেচে পড়ে কেই বা নিজের কাজ মাটি করতে চায়! তাই ‘পিছুডাক’ ব্যপারটাতে আরব্ধ ঘোষালের বড্ড অ্যালার্জি। কিন্তু কথায় বলে না, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যে হয়। আরব্ধর জীবনেওContinue Reading

বাড়ির সবার খাওয়া শেষ। এবার খেতে বসবে ঘোষাল বাড়ির ছোট বৌমা। এবাড়িতে আসা ইস্তক এইটাই চলে আসছে। অসুস্থ শ্বাশুড়ি, ছোট দুই ননদ,ভাসুর আর অকর্মণ্য বড় জা -স্মিতা যে বিয়ের পাঁচ বছরে তিনবার গর্ভবতী। সে  অধিকাংশ সময় বিছানায় শুয়ে থাকে।তার জন্য সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে বেহাল দশা কমলিকার। তার নিজের কোলContinue Reading

কতই বা বয়স লিপিকার। অল্প বয়সেই তার উপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। চার ভাইবোনের মধ্যে লিপিকাই বড়ো। সে পড়াশোনায় এবং তার গানের গলা খুব ভালো। স্কুলের দিদিমণি মাস্টারমশাইরা বলতেন এই মেয়ে একদিন অনেকদূর যেতে পারবে। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস বাবা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই মায়েরContinue Reading

IMG_07012021_010305_(600_x_400_pixel)-83450c94

মন ভাঙার তো কোনো শব্দ হয় না! শব্দ হলে হয়তো বুঝতে কত অভিমানী-চীৎকার শব্দহীন হয়ে গেছে , চোখের জলের নোনতা স্বাদে। আহত মনের ক্ষতচিহ্ন গুলোও চোখে ধরা দেয় না তোমার! তাহলে বুঝতে কত অনুভূতি বোবা হয়ে গেছে আজ, অক্সিটোসিন এর চোখ-রাঙানিতে। সব কিছু একসাথে পাবার নেশায় মগ্ন হয়ে ছিলাম ,Continue Reading

রইলে না, তুমি আর আমাতে রইলে না। ভাঙা-গড়ার ভয় না পেয়ে যেদিন তোমায় প্রথম হ্যাঁ বলেছিলাম, নিজেকে অতি সাহসী মনে হয়েছিল। প্রেম তো নশ্বর, যেখানে মানুষও। তাও শুনেছিলাম প্রেম নাকি প্রাচীন? তাই সাহস দেখিয়ে রোজ দিনের কয়েক ঘন্টা তোমায় নিয়ে চিন্তায় অতিবাহিত করতাম, হ্যাঁ আমি প্রেমে পড়তাম। আশ্বাস, অভ্যেস এগুলোContinue Reading

কল্পনা তখন রান্না ঘরে রান্না করছে। কল্পনার ছেলে সুমন ও মেয়ে রিয়া দুজনে বসার ঘরে বসে ছিল। সুমন তার দিদি রিয়াকে বলে, শোন দিদি, ঠাম্মি সবসময় মাকে এভাবে বকাবকি কেন করে? মা কি আমার মতো খুব দুষ্টামি করে? জানিস তো দিদি একদিন আমি দেখি ঠাম্মি মাকে চুলের মুঠি ধরে টানছে।Continue Reading

পিছুটান নাকি অন্যকিছু! কিরে পাগলী কি ওদিকে কি দেখছিস আর বিড়বিড় করছিস? সৌম্যর প্রশ্নে প্রায় চমকে তাকায় মিঠি, তারপর হাল্কা হেসে উত্তর দেয় নদীর জল দেখছি রে। সৌম্য নদীর দিকে তাকিয়ে বলল কতদিন পর এখানে এলাম আমরা, এখন তো করোনার জন্য বেরোনোই বন্ধ। মিঠি বলল হ্যাঁ, তাও প্রায় তিন মাসContinue Reading

কি গো এখনো ঘুমাওনি? পা টিপে দিতে দিতে কল্পনা তার স্বামী সন্তোষকে বললো। সন্তোষ বলল, না ঘুম আসছে না। জানো তো কল্পনা, একেক সময় আমার খুব কষ্ট হয়, মা তোমাকে সারাদিন কত পরিশ্রম করায়, তার পরও তুমি আমার পা টিপে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়লে তবেই তুমি ঘুমাও। তোমাকে কতবার বারণContinue Reading

জানো? কোথাও যেন বৈচিত্র্য নেই, নতুনত্ব নেই; রোমাঞ্চ নেই। থাকার মধ্যে শিহরণ আছে, রোজ রোজ নিয়ম করে টিভি চালিয়ে মৃত আর অসুস্থ মানুষের সংখ্যার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলার অবসাদের শিহরণ!  সংবাদমাধ্যমের হাড় হিম করা বেকারত্বের percentage এর দেখনদারির শিহরণ! রোজ চোখ খুললেই আর কাউকে না দেখতে পাওয়ার শিহরণ! জানো? প্রথমContinue Reading

পাড়াগ্রামের মেয়ে কল্পনা। ছোটবেলায় কল্পনা খুব দুরন্ত ছিল। তিন ভাইয়ের একটি মাত্র বোন, খুব আদরে মানুষ হয়েছে। যখন যা চাইতো সেটাই দিতে হতো। তার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালোই ছিল। বলতে গেলে কল্পনা ছিল এক রাজকুমারী। পাড়াগ্রামে কল্পনার বাবার অনেক জমি জায়গা ছিল। তাই কিছুটা জায়গা দিয়েছিল স্কুল করার জন্য। সেখানেContinue Reading